শিক্ষার দায়িত্বে কি তবে স্বপন দাশগুপ্তই? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নির্দেশে তুঙ্গে জল্পনা

রাজ্যে পালাবদলের পর নবগঠিত সরকারের পূর্ণ মন্ত্রিসভা এখনও গঠিত হয়নি। তবে এর মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ও দায়িত্ব বণ্টনের ইঙ্গিত মিলল। বুধবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে। সূত্রের খবর, আপাতত শিক্ষা দফতরের সামগ্রিক তত্ত্বাবধান ও আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে স্বপন দাশগুপ্তকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে?
শুভেন্দুর নির্দেশে প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতরের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিয়মিত বৈঠক করবেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে শিক্ষা দফতরের সচিব ও আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুভার স্বপন দাশগুপ্তের কাঁধেই দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় এখনও নাম না থাকলেও, খোদ মুখ্যমন্ত্রী যে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদারকি করতে বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবারের এই বৈঠকের পর থেকেই বিকাশ ভবনের অলিন্দে তাঁর আগমন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বের কারণ
শিক্ষাক্ষেত্রে স্বপন দাশগুপ্তর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বিজেপি সরকার হাতিয়ার করতে চাইছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে লন্ডনের সোয়্যাস (SOAS) কিংবা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়— তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও পাণ্ডিত্য প্রশ্নাতীত। এছাড়া ২০১৫ সালে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন পদ্মভূষণ সম্মান। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও তিনি দলের অন্যতম ‘বুদ্ধিজীবী মুখ’ হিসেবে সমাদৃত।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতার রাসবিহারী থেকে জয়ী স্বপন দাশগুপ্তকে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত ভোটারদের একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিগত কয়েক বছরে রাজ্যে শিক্ষা দফতর যে দুর্নীতির অভিযোগ ও সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, সেখানে স্বপন দাশগুপ্তর মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিকে বসিয়ে দফতরটির গরিমা পুনরুদ্ধারই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হতে পারে। এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রাথমিক পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সুদূরপ্রসারী বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।