রাজ্যের আলু ও কৃষিজ পণ্য অবাধে যাবে ভিনরাজ্যে, সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার সরকারের

রাজ্যের কৃষিজ পণ্য অন্য রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কড়াকড়ি ও আইনি বাধা অবশেষে দূর হলো। আলু, পেঁয়াজসহ সমস্ত ধরনের কৃষিজাত পণ্য এখন থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তেই অবাধে নিয়ে যেতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। নবান্নের নির্দেশে রাজ্যের কৃষি বিপণন দফতর এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উন্মুক্ত বাণিজ্যের পথে নতুন সরকার
পূর্বতন সরকার রাজ্যের বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে মাঝেমধ্যেই আলু ও পেঁয়াজ ভিনরাজ্যে পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করত। তবে বর্তমান বিজেপি সরকার সেই পথ থেকে সরে এসে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যকে সম্পূর্ণ বাধাহীন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে তার চিরস্থায়ী সমাধান হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে শাকসবজি, খাদ্যশস্য ও তৈলবীজ পরিবহনে পুলিশ বা প্রশাসন কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
কৃষকদের লাভ বনাম বাজারদরের আশঙ্কা
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে বড় ব্যবসায়ীরা এবং কৃষকদের একটি অংশ খুশিতে আত্মহারা। তাঁদের মতে, ভিনরাজ্যে পণ্য পাঠানোর রাস্তা খোলায় প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে এবং কৃষকরা ফসলের অনেক ভালো দাম পাবেন। এর ফলে উৎপাদনেও উৎসাহ বাড়বে। আন্তঃরাজ্য সীমানায় দীর্ঘ যানজট ও প্রশাসনিক জটিলতা কমলে পচনশীল পণ্যের ক্ষতিও কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, নজরদারি ছাড়া অবাধে আলু ও পেঁয়াজ বাইরে চলে গেলে রাজ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে বা ফলন কম হলে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জোগান ও চাহিদার ভারসাম্য ঠিক না থাকলে রাজ্যের উৎপাদিত ফসল রাজ্যের মানুষকেই ভবিষ্যতে চড়া দামে কিনতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।