সোনার দামে অগ্নিপরীক্ষা! ৩ লাখের দোরগোড়ায় রুপো, বিয়ের মরসুমে মধ্যবিত্তের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধির জেরে দেশের বাজারে সোনা ও রুপোর দাম এখন আকাশছোঁয়া। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে অলঙ্কার শিল্পে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকার সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিয়ের মরসুমের ঠিক আগেই সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে ব্যাপক টান পড়ছে।
১৩ মে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহার্ঘ হলো সোনা। গত তিন দিনে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রাজধানী দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,১৪০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৪১,৩১০ টাকায় পৌঁছেছে। কলকাতা ও মুম্বইতেও দাম প্রায় একই স্তরে থাকলেও চেন্নাইতে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১,৫৬,৩৪০ টাকা। লখনউ, জয়পুর ও পাটনার মতো শহরগুলোতেও দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
রুপোর দামে সর্বকালীন রেকর্ড
সোনার চেয়েও বেশি চমক দিচ্ছে রুপোর বাজার। গত দুই দিনে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১৫,১০০ টাকা বেড়েছে। দিল্লিতে এক কেজি রুপোর দাম ২,৯০,১০০ টাকায় পৌঁছালেও চেন্নাইতে তা ৩ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে ৩,০০,১০০ টাকায় থিতু হয়েছে। সোনার অগ্নিমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ যখন বিকল্প হিসেবে রুপোর দিকে ঝুঁকছেন, ঠিক তখনই এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি গয়না প্রেমীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অস্থিরতার নেপথ্যে বহুমুখী কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতার পাশাপাশি সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতি এই মূল্যবৃদ্ধিকে উসকে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বানের প্রভাবও বাজারে স্পষ্ট। আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার অস্থিরতার কারণে গয়না শিল্প এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। সাধারণ মানুষের জন্য বিনিয়োগ ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ধাতু ক্রয়—উভয় ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে দাঁড়িয়েছে।