ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গ, স্কুল খোলার দিন পিছিয়ে স্বস্তি দিচ্ছে রাজ্য সরকার!

রাজ্যজুড়ে চলা অসহনীয় দাবদাহ এবং ভ্যাপসা গরমের জেরে অবশেষে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আপাতত বৃষ্টির কোনো লক্ষণ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ থাকবে এবং ১ জুন থেকে পুনরায় পঠনপাঠন শুরু হবে।
ছুটি বাড়ানোর নেপথ্যে আবহাওয়া ও সরকারি সিদ্ধান্ত
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ মে স্কুল খোলার কথা থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই ছুটি বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট বলছে, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে বেলা বাড়লে অস্বস্তি চরমে পৌঁছাবে, যা স্কুলপড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আঞ্চলিক আবহাওয়ার বৈচিত্র্য ও প্রভাব
দক্ষিণবঙ্গে যখন লু এবং তীব্র গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, তখন উত্তরবঙ্গের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারসহ উত্তরের জেলাগুলোতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার উত্তরের সব জেলায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা বীরভূমে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সামগ্রিকভাবে সমতলে গরমের দাপট অব্যাহত থাকবে। এই দীর্ঘায়িত ছুটির ফলে একদিকে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাপপ্রবাহের হাত থেকে রক্ষা পেলেও, অন্যদিকে সিলেবাস শেষ করার ক্ষেত্রে পঠনপাঠনের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারেন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা।