লালবাজারে পৌঁছল চিঠি, আর তারপরই সিজিও কমপ্লেক্সে দৌড়! কী জানেন কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি?

লালবাজারে পৌঁছল চিঠি, আর তারপরই সিজিও কমপ্লেক্সে দৌড়! কী জানেন কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি?

দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকার পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে হাজিরা দিলেন কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এই আধিকারিক। তাঁর বিরুদ্ধে ইডি লুক আউট নোটিশ জারি করার পাশাপাশি লালবাজারে পুলিশের ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটিকে চিঠি পাঠানোর পরেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্ত এড়ানোর কৌশল ও কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ

ইডি সূত্রে জানা গেছে, বালি পাচার এবং জমি দখল সংক্রান্ত একাধিক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে বারবার তলব করা হলেও তিনি নানা অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তিনি দেশ ছাড়তে পারেন এই আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়। এর পাশাপাশি তাঁর অবস্থান ও বর্তমান দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রশাসনিক এই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে বাধ্য হলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোনা পাপ্পু সংযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকার কুখ্যাত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলার সূত্র ধরেই মূলত এই পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে শান্তনুর ফার্ন রোডের বাসভবনে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এই মামলায় জয় কামদার নামে এক ব্যবসায়ীকে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রভাবশালী যোগসূত্র এবং আর্থিক লেনদেনের নতুন কোনো দিক উন্মোচিত হতে পারে, যা এই জটিল মামলার কিনারা করতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *