জিনপিংকে মহান নেতা সম্বোধন করে প্রশংসায় ভাসালেন ট্রাম্প

বেজিং সফরের শুরুতেই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ আয়োজিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জিনপিংকে একজন ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, জিনপিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বের বন্ধু হওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের বিষয়। এই সৌজন্য বিনিময়ের সময় চিনা সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং শিশুদের প্রাণোচ্ছলতারও বিশেষ প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মজবুত হচ্ছে ওয়াশিংটন ও বেজিং সম্পর্ক
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের এবং অতীতে বহু জটিল সমস্যা তাঁরা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করেছেন। চিনের প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি জানান, অনেক সমালোচক তাঁর এই বক্তব্য পছন্দ না করলেও তিনি কেবল সত্যটুকুই বলছেন। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমেরিকা ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক ও শক্তিশালী হতে চলেছে।
বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্পের এই সফরের পেছনে গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা চিনের বাজারে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা বাড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী। মূলত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার জেরে বিশ্ব অর্থনীতি যখন অস্থির, ঠিক তখনই চিনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়ানোর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কূটনৈতিক মহলের মতে, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা কমাতে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতেই ট্রাম্প জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।