বাজেটে নতুন চমক! বিয়ের রঙিন মুহূর্ত এবার ধরা থাকছে ক্যানভাসে

ক্যামেরার লেন্স আর ডিজিটাল অ্যালবামের ভিড়ে আভিজাত্যের ছোঁয়া ফিরিয়ে আনছে ‘ওয়েডিং পেন্টিং’। অতীতে যখন ক্যামেরার চল ছিল না, তখন বিত্তবান পরিবারে চিত্রশিল্পীরাই বিয়ের মুহূর্ত তুলির টানে ফুটিয়ে তুলতেন। সময়ের বিবর্তনে সেই স্থান দখল করেছিল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি। তবে ২০২৬ সালে এসে শহর কলকাতায় বিয়ের মরসুমে নতুন করে ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে লাইভ ওয়েডিং পেন্টিং। দিল্লি, মুম্বই বা চেন্নাইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন বাঙালি বিয়ের মণ্ডপেও এক কোণে ক্যানভাস হাতে দেখা মিলছে শিল্পীদের।
স্মৃতি যখন জীবন্ত শিল্প
একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েডিং পেন্টিং তৈরি করতে সাধারণত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। শুভদৃষ্টি, মালাবদল বা সিঁদুরদানের মতো বিশেষ মুহূর্তগুলো আগে থেকেই দম্পতিরা শিল্পীকে পছন্দ করে জানান। বিয়ের মূল অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই শিল্পী মণ্ডপে পৌঁছে অন্দরসজ্জা ও পারিপার্শ্বিক আবহের খসড়া তৈরি করে ফেলেন। এরপর বর-কনে মণ্ডপে এলে শুরু হয় সূক্ষ্ম কাজ। পোশাকের কারুকাজ থেকে শুরু করে গয়নার উজ্জ্বলতা— সবটাই নিপুণভাবে ফুটে ওঠে ক্যানভাসে। অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি যখন মণ্ডপ ত্যাগ করেন, তখনই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিয়ের এক টুকরো জীবন্ত স্মৃতি।
শিল্পের কদর ও আধুনিক বিলাসিতা
এই পেশায় যুক্ত শিল্পীরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে মূলত দুই ধরনের মানুষ ওয়েডিং পেন্টিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। একদল যাঁরা শিল্পের প্রকৃত সমঝদার, আর অন্যদল যাঁরা বিয়েতে অভিনব কোনো চমক রাখতে চান। ক্যানভাসের আকার এবং ছবিতে মানুষের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই শখের খরচ নির্ধারিত হয়। সাধারণত ১৬/২০ ইঞ্চির ক্যানভাসে বর-কনের ছবি আঁকতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করছেন গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা বাড়লে খরচের অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পায়।
প্রভাব ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা
সপ্তদশ বা অষ্টাদশ শতকের ইউরোপীয় ঘরানার এই সংস্কৃতি ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক দম্পতির মতে, বিয়ের ডিজিটাল অ্যালবাম বা ভিডিও থাকলেও ড্রয়িংরুমে হাতে আঁকা একটি তৈলচিত্রের গুরুত্ব ও আভিজাত্য একেবারেই আলাদা। এর ফলে বিয়ের বাজেটে ফোটোগ্রাফির পাশাপাশি এখন চিত্রশিল্পীদের জন্যও বরাদ্দ থাকছে একটি নির্দিষ্ট অংশ। ২০২৬-এর বিয়ের মরসুমে ইতিমধ্যেই বহু শিল্পী অগ্রিম বুকিং পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে আধুনিক বিয়ের উদ্যাপনে যান্ত্রিকতার পাশাপাশি সৃজনশীলতার কদরও বাড়ছে। আমদানিকৃত মেহন্দি বা সঙ্গীত অনুষ্ঠানের মতো এই ধারাও এখন ভারতীয় বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠার পথে।