জেলে বসে সওয়াল করেও মিলল না মুক্তি, হাই কোর্টে খারিজ মাওবাদী অর্ণব দামের জামিন

শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে ভয়াবহ মাওবাদী হামলার মূল অভিযুক্ত অর্ণব দামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অপরাধের গুরুত্ব ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই মুহূর্তে তাঁকে জামিন বা সাজার মেয়াদ স্থগিত রাখার সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদালতের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরনো ক্ষতে আইনি প্রলেপ
২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরের শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে মাওবাদী হামলায় ২৪ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। সেই নৃশংস ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন অর্ণব। বর্তমানে বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি থেকেই তিনি নিজের সওয়াল নিজে করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর যুক্তি ও জামিনের আবেদন কোনোটিই আদালতের ধোপে টেকেনি। শিলদা হামলা কেবল প্রাণহানি নয়, বরং ইনসাস ও একে সিরিজের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র লুটের কারণে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেও বড় আঘাত ছিল।
শিক্ষা ও সাজার ভারসাম্য
জামিন খারিজ করলেও আদালত অর্ণব দামের উচ্চশিক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। জেল থেকেই ইতিহাসে পিএইচডি করছেন অর্ণব এবং বর্তমানে তাঁর গবেষণার বিষয় বন সংরক্ষণ। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, জামিন না পেলেও একজন গবেষক হিসেবে তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা জেল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। সাজা কার্যকর রাখার পাশাপাশি শিক্ষা ও সংশোধনের পথে আইনি এই ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা।
হামলার ভয়াবহতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে অর্ণবের এই সাজা বহাল থাকা মাওবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার অনমনীয় অবস্থানকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল। জওয়ানদের আত্মত্যাগ এবং অপরাধের নৃশংসতার কাছে অর্ণবের ব্যক্তিগত মেধা বা গবেষণার যুক্তি জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো ভূমিকা নিতে পারল না।