আমেরিকার পেশিশক্তির সামনে ইরানি চাল, সমুদ্রতলে সুতোর ওপর ঝুলছে বিশ্ব অর্থনীতি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক ভয়াবহ আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি মার্কিন বিমান বা নৌবাহিনীর মোকাবিলা করতে না পারলেও, ইরান এমন এক অপ্রতিসম যুদ্ধকৌশল হাতে রেখেছে যা মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ করে দিতে পারে আধুনিক সভ্যতাকে। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পরমাণু অস্ত্র নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশে বিছিয়ে রাখা ইন্টারনেট কেব্ল বা ‘ডিজিটাল ধমনী’ এখন তেহরানের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধূলিসাৎ করতে সক্ষম। তাঁর মতে, ইরান ইতিমধ্যে সামরিকভাবে কোণঠাসা। তবে এই সামরিক পেশিশক্তির আস্ফালনের বিপরীতে ইরান যদি ‘ধূসর এলাকা’ বা সমুদ্রতলের ইন্টারনেট পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে তার পরিণতি হবে প্রলয়ংকরী।
বিশ্ব অর্থনীতির স্নায়ুতন্ত্রে আঘাতের ভয়
হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে ২০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার-অপটিক কেব্ল প্রবাহিত হয়েছে। বৈশ্বিক ডিজিটাল ট্রাফিকের ৯৯ শতাংশই বহন করে এই কেব্লগুলি। ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যদি এই তারগুলো কেটে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, স্টক মার্কেট এবং এআই পরিষেবার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নাশকতার ফলে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি ডলারের বিশ্ব বাণিজ্য সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে, যা কোনো পরমাণু যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
অরক্ষিত পরিকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
১৫ লক্ষ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রগর্ভস্থ কেব্ল নেটওয়ার্ক যতটা শক্তিশালী, ঠিক ততটাই অরক্ষিত। এগুলোকে চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দেওয়া কার্যত আসাম্ভব। এর আগেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লোহিত সাগরে কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি কমে গিয়েছিল এবং আর্থিক লেনদেন ব্যাহত হয়েছিল। বর্তমান সংঘাতের আবহে যদি এই পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়, তবে উত্তাল রণক্ষেত্রে বিশেষায়িত জাহাজ পাঠিয়ে দ্রুত মেরামতের কাজ করাও আসাম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে মাসের পর মাস বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অন্ধকার নেমে আসার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক চাপ ইরানকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করবে, নাকি তেহরান তাদের এই ‘ডিজিটাল অস্ত্র’ ব্যবহার করে বিশ্ব অর্থনীতিকে পণবন্দি করবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে এই টানাপোড়েনে আধুনিক বিশ্বের ডিজিটাল মেরুদণ্ড যে চরম ঝুঁকির মুখে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।