জ্বালানি বাঁচাতে দিল্লির বড় পদক্ষেপ, সপ্তাহে দু’দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ

জ্বালানি সাশ্রয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি সরকার। এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করার সুযোগ পাবেন সরকারি কর্মীরা। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ বৈঠক অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর বিধিনিষেধ
দিল্লি সরকার এবং দিল্লি পৌরনিগম তাদের দপ্তরের সময়সূচিতে বড়সড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। সরকারি যানবাহনের ব্যবহার কমাতে কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত পেট্রোলের সীমা এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাসিক পেট্রোল ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ লিটার থেকে আরও নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া আগামী ছয় মাসের জন্য নতুন কোনো সরকারি যানবাহন কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গণপরিবহন ও জনসচেতনতায় জোর
নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দিল্লি সরকার শিগগিরই একটি বিশেষ প্রচারভিযান শুরু করবে। গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ‘মেট্রো দিবস’ পালন এবং সপ্তাহে একদিন ‘নো কার ডে’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে সাধারণ মানুষের প্রতি। সরকারি কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২৯টি আবাসন এলাকায় ৫৮টি বিশেষ বাস চলাচলের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
জাতীয় আহ্বানে সাড়া
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি সাশ্রয় ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশবাসীর প্রতি একগুচ্ছ বার্তা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাবের সঙ্গে সংগতি রেখেই ত্রিপুরা এবং অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো এবার পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। এই নতুন ব্যবস্থায় দপ্তরের গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মচারীদের ৫০ শতাংশ পর্যায়ক্রমে রোস্টার অনুযায়ী অফিসে হাজিরা দেবেন এবং বাকিরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত ও সরকার অধিগৃহীত সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম কার্যকর থাকবে।