বিধাননগরে এলাহি কারবার! অনুমতি ছাড়াই মাথা তুলেছে ১৪টি বহুতল, হাই কোর্টে বিস্ফোরক রিপোর্ট

বিধাননগরে এলাহি কারবার! অনুমতি ছাড়াই মাথা তুলেছে ১৪টি বহুতল, হাই কোর্টে বিস্ফোরক রিপোর্ট

বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় বেআইনি নির্মাণের রমরমা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা দিল খোদ পুর কর্তৃপক্ষ। একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে জমা দেওয়া এই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিধাননগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আটঘরা মৌজায় কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই অন্তত ১৪ থেকে ২০টি বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে। জলাভূমি ভরাট করে এই বিশাল ভবনগুলো গড়ে তোলা হয়েছে বলে আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

জলাভূমি ভরাট ও অবৈধ নির্মাণ

মামলাকারী সাবির আলী মণ্ডলের অভিযোগ ছিল, সরকারি নথিতে জমিগুলো ‘শালি’ বা ‘ডোবা’ হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও তা বেআইনিভাবে বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। এরপর পুরনিগমের কোনো প্রকার অনুমোদন বা নকশা ছাড়াই তিন তলা থেকে শুরু করে ছয় তলা পর্যন্ত বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই অবৈধ ভবনগুলোতে বড় বড় হোটেলের ব্যবসা, গাড়ি বিক্রির শোরুম এমনকি নামী বিরিয়ানি চেনের শাখাও রমরমিয়ে চলছে। কিছু ভবন আবার আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আদালতের কড়া নির্দেশ ও প্রশাসনিক তৎপরতা

প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে (বিএলআরও) দ্রুত জমিগুলোর চরিত্র সম্পর্কিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিতর্কিত জমিগুলো বাস্তু নাকি জলাভূমি, তা খতিয়ে দেখে আগামী শুনানিতে জানাতে হবে।

সম্প্রতি তপসিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। এই ধরনের ভবনের বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিধাননগরের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর মনে করা হচ্ছে, এই ১৪টি বহুতলের বিরুদ্ধেও বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান বা আইনি পদক্ষেপ শুরু হতে পারে। জলাভূমি নষ্ট করার ফলে পরিবেশগত যে বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও সরব হয়েছেন পরিবেশবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *