৮২টি কেমো হার মানল জেদের কাছে! ক্যানসার জয় করে উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় নিমতার অদ্রিজা

৮২টি কেমো হার মানল জেদের কাছে! ক্যানসার জয় করে উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় নিমতার অদ্রিজা

২০১৮ সাল। যখন বন্ধুদের সঙ্গে খেলার মাঠে থাকার কথা, তখনই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী অদ্রিজা গণের জীবনে হানা দিয়েছিল মরণব্যাধি ক্যানসার। শরীরজুড়ে থাবা বসিয়েছিল ‘টি-সেল লিম্ফোমা’। দীর্ঘ আট মাস মুম্বইয়ের হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণার সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হয়েছে তাকে। তবে ক্যানসারের কোষগুলো অদ্রিজার শরীরকে কাবু করলেও তার স্বপ্নকে মুছে ফেলতে পারেনি। ৮২টি কঠিন কেমোথেরাপির ধকল সয়ে এবং এক বছর পিছিয়ে গিয়েও দমে যায়নি সে। অবশেষে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় দশম স্থান দখল করে জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়টি ছিনিয়ে নিল নিমতার এই লড়াকু কিশোরী।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পড়াশোনাই ছিল বাঁচার রসদ

অদ্রিজার এই সাফল্য কেবল মেধার পরিচয় নয়, বরং এটি তার অকুতোভয় মানসিকতার ফসল। চিকিৎসার কারণে এক বছর সময় নষ্ট হলেও হাসপাতালের বেড থেকে বই ছাড়েনি সে। ২০২১ সালের জুন মাসে শেষ কেমোথেরাপি চললেও শরীরের ওপর ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। রাত জেগে পড়ার ক্ষমতা ছিল না, যেতে পারত না বাইরের কোনো টিউশনেও। তবুও দমে না গিয়ে দুপুরের বিশ্রামের সময়টুকু পড়াশোনায় কাজে লাগাত সে। ইংরেজি, ভূগোল ও অর্থনীতিসহ প্রতিটি বিষয়ে ৯০-এর ওপর নম্বর পাওয়া অদ্রিজা গড়ে ৯৭.৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। তার এই লড়াইয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন শিক্ষক বাবা-মা এবং দিদি। মূলত মায়ের অদম্য সাহস এবং স্কুলের সহযোগিতাই তাকে আজ এই সাফল্যের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও জীবনবোধের শিক্ষা

অদ্রিজা এখন নিজেকে মেলে ধরতে চায় মনস্তত্ত্বের আঙিনায়। সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ সাইকোলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে। তার মতে, কঠিন লড়াইয়ে সাময়িকভাবে ভেঙে পড়লেও মনের জোর হারানো উচিত নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তার রোগটি যখন ধরা পড়েছিল, তখন সেটি ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের মাঝামাঝি। সেখান থেকে ফিরে এসে মেধাতালিকায় নাম তোলা কেবল তার পরিবারের জন্যই নয়, বরং সমাজের সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করা মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। অদ্রিজার এই জয় প্রমাণ করে দিল যে, জীবনযুদ্ধের ময়দানে জেদ আর আত্মবিশ্বাস থাকলে মরণব্যাধিও হার মানতে বাধ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *