আকাশছোঁয়া সোনার বাজারে বড় স্বস্তি দিয়ে রুপোর দরপতন

আকাশছোঁয়া সোনার বাজারে বড় স্বস্তি দিয়ে রুপোর  দরপতন

সোনা ও রুপোর বাজারে গত দুই দিন ধরে চলা তীব্র অস্থিরতার মধ্যে বৃহস্পতিবার এক নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাবে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও, মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে কলকাতায় রুপোর দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ শুল্ক কাঠামোর রদবদলে ধাতু দুটির দামে এই বৈপরীত্য দেখা দিচ্ছে।

শুল্ক বৃদ্ধিতে সোনার দৌড় অব্যাহত

সম্প্রতি সরকার সোনার ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর সরাসরি প্রভাবে বুধবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দাম এক লাফে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। বৃহস্পতিবারও সেই ধারা বজায় রেখে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৬৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ৯,৬১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের বাজারদর দাঁড়িয়েছে ১,৬২,৩৩০ টাকা। ১৮ ও ২২ ক্যারেট সোনার দামও গ্রাম প্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রুপোর দামে ধস এবং বাজারের ভবিষ্যৎ

সোনার দামে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও রুপোর বাজারে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু হতেই রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৫,৭৮৮ টাকা কমে যায়। কলকাতায় রুপোর খুচরো বাজারে এই পতনের পরিমাণ আরও বেশি, সেখানে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে কলকাতায় প্রতি কেজি রুপোর দাম ৩ লক্ষ টাকায় এসে ঠেকেছে। মূলত বিশ্ববাজারে চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতাই এই ধসের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম চড়া থাকলেও উচ্চ মূল্যের কারণে বাজারে চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, রুপোর এই ব্যাপক দরপতন শিল্পক্ষেত্রে ধাতব চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিয়ের মরশুমে বহুমূল্য এই দুই ধাতুর দামের এমন ওঠা-নামা সাধারণ ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *