জ্বালানি সাশ্রয়ে দিল্লির বড় পদক্ষেপ, সপ্তাহে দুদিন ওয়ার্ক ফ্রম হোমসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম

জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় নজিরবিহীন একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে দিল্লি সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাশ্রয়ী আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ অভিযানের আওতায় এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে সরকারি অফিসগুলোতে সপ্তাহে দুই দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) কার্যকর করা হবে। একই সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই নীতি অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিবহন ও জ্বালানি ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ
জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের জন্য পেট্রোলের বরাদ্দ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে ‘মন্ডে মেট্রো ডে’, যেখানে প্রতি সোমবার মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো রেলে যাতায়াত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ কর্মচারীদের গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রথম থেকে অষ্টম গ্রেডের কর্মীরা যদি তাদের ভাতার ২৫ শতাংশ পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ব্যয় করেন, তবে তারা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সরকারি ভাতা পাবেন। আগামী ছয় মাস সরকার কোনো নতুন যানবাহন ক্রয় করবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক ও শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর
যানজট ও তেলের অপচয় কমাতে অফিসের সময়সূচীতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি সরকারের অফিসগুলো এখন থেকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০টা পর্যন্ত এবং পৌরসভার অফিসগুলো সকাল ৮:৩০টা থেকে বিকেল ৫:৩০টা পর্যন্ত চলবে। প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে অন্তত ৫০ শতাংশ মিটিং অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে; বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে অনলাইন ক্লাসের অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি আদালতগুলোকেও ভার্চুয়াল শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকি মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণেও এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সাশ্রয়ী উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী প্রভাব
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে কেবল পেট্রোল-ডিজেলের সাশ্রয় হবে না, বরং বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অফিসের এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং বাতি বন্ধে অটোমেটিক সুইচের ব্যবহার বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করবে। এই অভিযানের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং দেশীয় বা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের প্রসার ঘটানোর একটি বৃহত্তর লক্ষ্য রয়েছে। আগামী ৯০ দিন ধরে সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শামিল করার পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি প্রশাসন।