তিলজলার পর এবার গড়িয়া, অবৈধ ক্লক টাওয়ার গুঁড়িয়ে রাজ্যে চলছে প্রবল বুলডোজার অভিযান

কলকাতায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এখন তুঙ্গে। তিলজলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠ সংলগ্ন একটি ক্লক টাওয়ার বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার পুরসভার কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল ঘেরাটোপে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও রাজনৈতিক সংঘাত
বুধবার তিলজলার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতলের অবৈধ অংশ ভাঙার মাধ্যমে এই অভিযানের সূচনা হয়েছিল। বৃহস্পতিবারও সেখানে বাকি অংশ ভাঙার কাজ অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নওশাদ সিদ্দিকি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে বাধা দেয়। অন্যদিকে, গড়িয়ার ক্লক টাওয়ার ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও আগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই সক্রিয়তায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটি একটি কড়া বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
আদালতে সরব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যজুড়ে চলা এই বুলডোজার অভিযানের তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সওয়াল করেন। তিনি রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেন, বাংলা কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। দলীয় কর্মীদের সুরক্ষা ও এই ধরনের উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্র্যাকটিস নিয়ে রিপোর্ট তলব করার মাঝেই প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিয়মবহির্ভূত কোনো নির্মাণকেই রেয়াত করা হবে না।