NBSTC-র বাস কি এবার রাস্তাতেই থেমে যাবে? পরিবহণ সচিবের দ্বারস্থ MD-র পদক্ষেপে বাড়ছে জল্পনা

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে (NBSTC) তৈরি হয়েছে তীব্র প্রশাসনিক ও কারিগরি অচলাবস্থা। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্বহালের ক্ষেত্রে নবান্নের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পর নিগমের চাকা সচল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, সংকটের সমাধান খুঁজতে জরুরি ভিত্তিতে কলকাতায় পরিবহণ সচিবের দ্বারস্থ হয়েছেন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই।
অভিজ্ঞ কর্মীর অভাব ও প্রশাসনিক শূন্যতা
দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় নিগম মূলত অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর ভর করেই চলছিল। বর্তমানে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলোতে ৩৩ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অ্যাকাউন্টস, ল, কনস্ট্রাকশন এবং স্টেট ম্যানেজমেন্টের মতো সংবেদনশীল বিভাগের পাশাপাশি কোচবিহার, রায়গঞ্জ ও আলিপুরদুয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন ইনচার্জের পদেও রয়েছেন এই প্রবীণ কর্মীরা। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকায় তাঁদের কর্মকাল বৃদ্ধি না করার ফলে নিগম কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
পরিকাঠামোগত বিপর্যয় ও জনভোগান্তি
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিগমের বর্তমান দশা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৩,৭৭৫ জন স্থায়ী কর্মীর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বর্তমানে ৩,৪৬৪টি পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। কারিগরি বিভাগে সাতজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের জায়গায় রয়েছেন মাত্র একজন এবং জুনিয়র ফোরম্যানের ২৭টি পদের সবকটিই ফাঁকা। এই তীব্র কর্মী সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাস পরিষেবায়। নিগমের হাতে ৭০০টি বাস থাকলেও পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৫৫০-৫৭০টির বেশি বাস রাস্তায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
এজেন্সির মাধ্যমে কিছু প্রযুক্তিগত কাজ চালানো হলেও অভিজ্ঞ সুপারভাইজারের অভাবে কাজের গুণমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগবে, আর এই অন্তর্বর্তী সময়ে অভিজ্ঞ কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হলে সমগ্র উত্তরবঙ্গের জনপরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিগমের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নিশ্চয়তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিবহণ দফতরের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।