উত্তরপ্রদেশে প্রাণ কাড়ল থান্ডারস্কোয়াল, ধ্বংসলীলায় মৃত অন্তত ৮৯ জন

উত্তরপ্রদেশের পাঁচটি জেলায় কালবৈশাখীর চেয়েও শক্তিশালী ‘থান্ডারস্কোয়াল’-এর তাণ্ডবে অন্তত ৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবারের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাদোহি জেলা। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতে মুহূর্তের মধ্যে উপড়ে গিয়েছে বহু গাছপালা, ভেঙে পড়েছে কাঁচা বাড়ির দেওয়াল। বিপর্যয়ের জেরে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বহু এলাকায় মোবাইল পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবারের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কী এই থান্ডারস্কোয়াল এবং কেন এই ভয়াবহতা
আবহবিদদের মতে, থান্ডারস্কোয়াল কোনো সাধারণ ঝড় নয়; এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির ও বিধ্বংসী বায়ুমণ্ডলীয় আলোড়ন। মে মাসে উত্তর ভারতের সমতল ভূমিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় মাটির কাছের বায়ু উত্তপ্ত হয়ে দ্রুত উপরে উঠে যায়। এই শূন্যস্থানে চারপাশ থেকে আসা ঠান্ডা ও জলীয় বাষ্পযুক্ত বায়ুর তীব্র সংঘর্ষে বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর পাকিস্তান ও জম্মু অঞ্চলের একটি ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় ঘূর্ণাবর্তের মিলনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে সৃষ্ট এই ঝড়ে তীব্র বাতাসের সঙ্গে ছিল প্রবল বজ্রপাত, যা সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি।
জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের ঝড়ের তীব্রতা ও প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে বাড়তি তাপমাত্রার অর্থ হলো ঝড়ের জন্য অধিক শক্তি সঞ্চিত হওয়া, যার ফলে এটি দ্রুত অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে। উত্তর ভারতের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কাঁচা বাড়ি ও খোলা জায়গায় আশ্রয়ের আধিক্য এই বিপর্যয়ে মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘতর করেছে। আবহবিদদের মতে, ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খোলা মাঠ বা গাছের তলা এড়িয়ে পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া জরুরি, কারণ জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে ঝড়ের স্থায়িত্ব কমলেও এর ধ্বংসক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।