বিধানসভার লবিতে মুখোমুখি শুভেন্দু-কুণাল, কী কথা হল?

রাজ্য রাজনীতির দুই যুযুধান পক্ষ শুভেন্দু অধিকারী এবং কুণাল ঘোষ। জনসভা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—একে অপরকে আক্রমণ করার কোনো সুযোগই তাঁরা হাতছাড়া করেন না। তবে বৃহস্পতিবার বিধানসভার অলিন্দে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে সৌজন্য ও হাসিমুখে একে অপরের মুখোমুখি হলেন এই দুই হেভিওয়েট নেতা।
হাসি মুখে কুশল বিনিময়
সূত্রের খবর, আজ বিধানসভার লবি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। যুযুধান দুই শিবিরের দুই সেনাপতিকে সামনে পেয়ে সেখানে এক মুহূর্তের জন্য থমকে যায় রাজনৈতিক উত্তাপ। কুণাল ঘোষ প্রথমেই শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে ‘শুভেচ্ছা’ জানান। বিরোধী দলনেতাও সৌজন্যের খাতিরে দাঁড়িয়ে যান এবং চওড়া হাসি নিয়ে পাল্টা মন্তব্য করেন, ‘কি শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন তো!’ উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনেই বেশ কিছুক্ষণ হালকা মেজাজে কথা বলতে দেখা যায় তাঁদের।
দিলীপ ঘোষের আন্তরিকতা ও আগামীর সমীকরণ
এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পরিস্থিতি আরও ইতিবাচক হয়ে ওঠে যখন মন্ত্রী নিজে এগিয়ে গিয়ে কুণাল ঘোষকে জড়িয়ে ধরেন। বিধানসভার অন্দরে দুই পক্ষের এই হৃদ্যতা দেখে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই চমকে গিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতির ময়দানে কড়া লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই ধরনের সৌজন্য বিনিময় বাংলার সংসদীয় সংস্কৃতির একটি ইতিবাচক দিক। তবে এই সাক্ষাতের প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা পড়বে তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, আপাতত জনসমক্ষে আসা এই ‘হাসিমুখের ছবি’ যুযুধান দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের কাছে এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিল। এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক বৈরিতা কমিয়ে ভবিষ্যতে সুস্থ আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।