সঙ্গীতজগতে নক্ষত্রপতন! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন প্রখ্যাত তবলা-শিল্পী উস্তাদ সাবির খান

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত জগতের আকাশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফরুখাবাদ ঘরানার প্রবাদপ্রতিম তবলা-শিল্পী উস্তাদ সাবির খান আর আমাদের মধ্যে নেই। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার রাজারহাটের বাসভবনে আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। দ্রুত তাঁকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
উত্তরাধিকার ও সংগীত জীবন
তবলা জগতের অন্যতম দিকপাল উস্তাদ করমতুল্লাহ খানের উত্তরসূরি হিসেবে সাবির খান শৈশব থেকেই সুরের আবহে বেড়ে ওঠেন। ফরুখাবাদ ঘরানার শৈল্পিক ঘরানাকে তিনি বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগীত জীবনে তিনি পন্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ আমজাদ আলি খান এবং পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার মতো বরেণ্য শিল্পীদের সঙ্গে সংগত করেছেন। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় তবলার বোল ও লয় এক নতুন মাত্রা পেত, যা শুধু ঘরানা বজায় রাখা নয়, বরং শাস্ত্রীয় সংগীতের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
একটি যুগের অবসান ও সাংস্কৃতিক ক্ষতি
উস্তাদ সাবির খানের প্রয়াণ কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর প্রয়াণে সংগীতের একটি বিশেষ ঘরানার ধারক ও বাহক স্তব্ধ হয়ে গেল। শিল্পবোদ্ধাদের মতে, তাঁর তবলার বাদনশৈলী নতুন প্রজন্মের কাছে ছিল এক অনুপ্রেরণার পাঠশালা। তাঁর এই আকস্মিক বিদায় শাস্ত্রীয় সংগীতের মঞ্চে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করল, যা আগামী দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হবে। গানের জগতের এই নক্ষত্র পতনে শোকাতুর শিল্পী ও অনুরাগীরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছেন।