বাঁশের সাঁকোয় পকেট কাটছে মাফিয়ারা! ক্রান্তিতে ‘অবৈধ টোল’ বন্ধে কড়া প্রশাসন

বাঁশের সাঁকোয় পকেট কাটছে মাফিয়ারা! ক্রান্তিতে ‘অবৈধ টোল’ বন্ধে কড়া প্রশাসন

জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের চেল নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশেষে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই টোল আদায়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ব্লক প্রশাসন। কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়া বছরের পর বছর ধরে চলা এই অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়াকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

সেতুহীন জনপদে দীর্ঘ বঞ্চনা

চেল নদীর ওপর স্থায়ী কোনো পাকা সেতু না থাকায় উত্তরবঙ্গের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষকে যাতায়াতের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এরপর সেই সাঁকো পারাপারের জন্য সাইকেল, মোটরসাইকেল এমনকি পথচারীদের কাছ থেকেও নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি ‘পারাপার ট্যাক্স’ হিসেবে পরিচিতি পেলেও আইনিভাবে এর কোনো ভিত্তি ছিল না।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

সম্প্রতি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর ব্লক দপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথে এভাবে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। এর ফলে এলাকায় যেমন আর্থিক শোষণ বন্ধ হবে, তেমনই সরকারি রাস্তার ওপর প্রভাবশালীদের দখলদারি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার পর সাঁকোটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং বর্ষাকালে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখা প্রশাসনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন, অন্যথায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাতায়াত ব্যবস্থার সংকট কাটবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *