২ জন আইপিএস-কে জেলে ঢুকিয়েছিলাম, রেকর্ড মনে রাখবেন! পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি কল্যাণের

২ জন আইপিএস-কে জেলে ঢুকিয়েছিলাম, রেকর্ড মনে রাখবেন! পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি কল্যাণের

কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হওয়া নজিরবিহীন অশান্তির ঘটনায় এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারের সেই ঘটনার রেশ টেনে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন তিনি। নিজের পুরনো রেকর্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, আইন অনুযায়ী কাজ না করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

পুরনো রেকর্ড ও জেল খাটানোর হুমকি

ভোট-পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের সসম্মানে বাড়ি ফেরানোর বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ঘরছাড়াদের নিরাপত্তা দিয়ে ফেরাতে হবে, অন্যথায় আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার রেকর্ড মনে রাখবেন, আগে দু’জন আইপিএস অফিসারকে জেলে ঢুকিয়েছিলাম। আইন অনুযায়ী কাজ না করলে এবারও কাউকে ছাড়ব না।” বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিঁধে তিনি আরও যোগ করেন যে, অতীতে বাম আমলের ঘুম যেভাবে ভাঙিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেও তিনি একই পথে হাঁটবেন।

আদালতে বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ

এদিন হাইকোর্টের এজলাস থেকে বেরনোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই ধরণের নজিরবিহীন হেনস্থা করা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, গত ৪৫ বছরে হাইকোর্টে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তিনি দেখেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পরিচয় নিয়ে বিরোধীদের তোলা বিতর্কেরও কড়া জবাব দেন তিনি।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাব

আইনজীবীর এই হুঁশিয়ারি পুলিশ প্রশাসনের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘরছাড়াদের ফেরানোর প্রশ্নে আদালতের কড়া নির্দেশের পর পুলিশের নিস্পৃহতা বজায় থাকলে যে আইনি লড়াই আরও তীব্র হবে, কল্যাণের বক্তব্যে তা স্পষ্ট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত এখন রাজপথ ছাড়িয়ে আদালতের অলিন্দে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *