তপ্ত বাংলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস! কবে ঢুকছে বর্ষা? দিনক্ষণ জানাল হাওয়া অফিস

আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই এই অঞ্চলে বর্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে পারে। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার অবস্থান বর্ষা আসার জন্য সম্পূর্ণ সহায়ক। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর প্রবাহ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরজুড়ে বৃষ্টির দাপট বাড়াবে।
স্বাভাবিক গতিপথে বর্ষার পদধ্বনি
প্রতিবছর সাধারণত ১৯ থেকে ২১ মে-র মধ্যে আন্দামান সাগরে বর্ষার আগমন ঘটে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরও সেই নির্দিষ্ট সময়ের আশেপাশেই বর্ষার আগমন ঘটতে যাচ্ছে। আইএমডি-র মানদণ্ড অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মাত্রার বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতিপ্রকৃতি এবং জলীয় বাষ্পের আধিক্য—সবই ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ইতিমধ্য়েই আকাশ মেঘলা হতে শুরু করেছে এবং কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। কেরলে বর্ষা পৌঁছানোর স্বাভাবিক সময় ১ জুন হওয়ায়, আন্দামানে এই দ্রুত অগ্রগতি দেশজুড়ে স্বাভাবিক বর্ষার আশা জাগাচ্ছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা
বর্ষার এই সময়োচিত আগমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের কৃষকরা ধান, পাট ও খরিফ শস্য চাষের জন্য বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন। চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’-র প্রভাব তুলনামূলক কম থাকায় এবং ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে দেশের কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে ছোট ট্রলারগুলিকে উপকূলের কাছে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।