গয়না কেনায় না, কাগুজে সোনায় হ্যাঁ! মোদীর আর্জিতেই কি সোনা-লগ্নিতে বড় মোড়?

সারা বিশ্বে চলমান অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে দেশবাসীকে আপাতত সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হায়দরাবাদের এক জনসভায় তাঁর এই বার্তার পর থেকেই ভারতের বিনিয়োগ বাজারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং টাকার দামের পতন রুখতে কেন্দ্র যখন গয়না বা বাট কেনায় নিরুৎসাহিত করছে, তখনই বিকল্প হিসেবে ‘কাগুজে সোনা’ বা গোল্ড ইটিএফ (ETF) কেনার হিড়িক পড়েছে লগ্নিকারীদের মধ্যে।
শুল্ক বৃদ্ধি ও বিকল্প লগ্নির জোয়ার
সোনার আমদানি কমাতে মোদী সরকার সম্প্রতি সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই শেয়ারবাজারে সোনার ইটিএফগুলোর দাম এক লাফে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমজনতা সরাসরি সোনা কেনার বদলে মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ারবাজারের মাধ্যমে কাগুজে সোনায় বিনিয়োগকে নিরাপদ মনে করছেন। গত ছয় মাসে অনেক গোল্ড ইটিএফ প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের বড় মুনাফার মুখ দেখাচ্ছে।
চাহিদার কারণ ও বাজার পরিস্থিতি
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে অস্থিরতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনাকেই বেছে নিচ্ছেন লগ্নিকারীরা। পাশাপাশি ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ক্রমাগত তাদের স্বর্ণভাণ্ডার বাড়াতে সোনা কেনায় খোলা বাজারে এর চাহিদা ও দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ইতিমধ্যেই প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও পূর্বাভাস
সরকারের এই কড়াকড়ির ফলে অলঙ্কার শিল্প কিছুটা উদ্বেগে থাকলেও ডিজিটাল গোল্ড বা ইটিএফের বাজার আরও চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির চাপে সোনার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দর অচিরেই ১.৮৬ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে। আমদানিতে রাশ টেনে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমানোই এখন কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের চিরাচরিত বিনিয়োগের অভ্যাসে।