নারীদের মুণ্ডু কেটে ফুটবল খেলা হয় এই জেলে! নরককেও হার মানাবে এই বন্দিনিবাস

নারীদের মুণ্ডু কেটে ফুটবল খেলা হয় এই জেলে! নরককেও হার মানাবে এই বন্দিনিবাস

কারাগার বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চার দেয়ালের কড়া নিরাপত্তা আর আইনের শাসন। কিন্তু মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস ও এল সালভাদরের কারাগারগুলোর চিত্র এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানে আইনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে অপরাধী গ্যাংগুলোর ক্ষমতা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, জেলের ভেতরেই বন্দিরা একে অপরকে হত্যা করে এবং সেই কাটা মাথা নিয়ে ফুটবল খেলার মতো পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কারাগার যখন গ্যাংস্টারদের স্বর্গরাজ্য

হন্ডুরাস এবং এল সালভাদরের জেলখানাগুলো মূলত ‘এমএস-১৩’ এবং ‘ব্যারিও ১৮’-এর মতো কুখ্যাত ড্রাগ কার্টেল ও গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই অপরাধী গোষ্ঠীগুলো কেবল কারাগারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জেলের ভেতর থেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাইরের দুনিয়ায় হত্যা, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে। কারারক্ষীরা এখানে নামমাত্র দায়িত্বে থাকেন; প্রকৃত শাসন চলে গ্যাং লিডারদের অঙ্গুলি হেলনে। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বন্দি থাকায় এই জেলগুলোতে গ্যাং ওয়ার বা গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নারী কারাগারে পৈশাচিক হামলা ও লাশের মিছিল

সম্প্রতি হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগাল্পার কাছে একটি নারী কারাগারে সশস্ত্র গ্যাং সদস্যদের হামলা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। হামলাকারীরা কারাগারের ভেতরে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে ৪১ জন বন্দি প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর সরকারি তল্লাশিতে কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, অ্যাসল্ট রাইফেল, গ্রেনেড এবং কোটি টাকার নগদ অর্থ ও গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। এল সালভাদরের পরিস্থিতি আরও সংকটজনক; যেখানে ১০ হাজার ধারণক্ষমতার জেলে ৩০ হাজারেরও বেশি বন্দিকে রাখা হয়েছে।

সংকট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই অরাজকতা নিয়ন্ত্রণে এল সালভাদর সরকার বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে তারা বিশালাকার ‘টেররিজম কনফাইনমেন্ট সেন্টার’ নির্মাণ করেছে এবং হাজার হাজার গ্যাং সদস্যকে সেখানে স্থানান্তরিত করছে। কারাগারগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা এবং সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে অপরাধীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোর দমননীতি একদিকে অপরাধ প্রবণতা কমালেও, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত বন্দি চাপের ফলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে এই দুই দেশের কারাগারগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং মানবিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *