শনিবার কলকাতায় মেগা বৈঠক, শুভেন্দুদের পাঁচ বছরের রূপরেখা দিতে আসছেন অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। নতুন বিজেপি সরকারের আগামী পাঁচ বছরের কাজের দিশা, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে শনিবার কলকাতায় দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে এক মেগা বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরিতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপির এক বরিষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতেই কলকাতায় এসে পৌঁছবেন অমিত শাহ। শনিবারের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ দলের ২০৭ জন বিধায়ক এবং রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নতুন সরকারের কাজের গতি বাড়ানো, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মাত্র পাঁচজন মন্ত্রীর দফতর বণ্টন হয়েছে। ফলে এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে চলেছে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। জল্পনা রয়েছে, রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং সুরির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রীর তালিকায় জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও নতুন চ্যালেঞ্জ
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের অভিযোগকে হাতিয়ার করেই বিজেপি বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ফলে নতুন সরকার যাতে কোনোভাবেই বিতর্কের মুখে না পড়ে, সেই কড়া বার্তাই বিধায়কদের দেবেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। অননুমোদিত টোলপ্লাজা ও বেআইনি পার্কিং ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। পাশাপাশি নগরোন্নয়ন ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ১২৮টি পুরসভার কাজের গুণমান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের বকেয়া টাকা মেটানো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্ষমতা বদলের পর দলে যোগ দিতে ইচ্ছুক বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামলানো। সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আপাতত নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অমিত শাহের এই সফর ও বৈঠক রাজ্য বিজেপির জন্য অত্যন্ত দিকনির্ণায়ক হতে চলেছে।