নিখোঁজ স্বামী ফিরবে লালসার বিনিময়ে! ভণ্ড বাবার কাছে গিয়ে চরম প্রতারিত গৃহবধূ

নিখোঁজ স্বামী ফিরবে লালসার বিনিময়ে! ভণ্ড বাবার কাছে গিয়ে চরম প্রতারিত গৃহবধূ

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিখোঁজ স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং তুকতাক বা তন্ত্রবিদ্যার ভয় দেখিয়ে এক ভণ্ড তান্ত্রিক ওই মহিলার ওপর এই পাশবিক অত্যাচার চালায়। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয় সক্কারদারা থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

সহায়তার আড়ালে প্রতারণার জাল

নাগপুরের সক্কারদারা এলাকার বাসিন্দা ওই ভুক্তভোগী নারী শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। গত বছরের ১৫ অক্টোবর তাঁর স্বামী কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ সময় পুলিশ ও আত্মীয়স্বজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্বামীর সন্ধান না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় তাহির রশিদ বেগ নামের এক ভণ্ড তান্ত্রিক। সে নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে জানায় যে, তার তন্ত্রবিদ্যার মাধ্যমে কয়েক দিনেই স্বামীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তুকতাক ও লালসার শিকার

তদন্তে জানা গেছে, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় ওই নারী তান্ত্রিকের ফাঁদে পা দেন। অভিযুক্ত তাহির তন্ত্রবিদ্যার দোহাই দিয়ে ওই গৃহবধূকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাঁর অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে। বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ওই নারী বুঝতে পারেন যে, তাঁকে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং তাঁর স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল কেবল একটি সাজানো নাটক। এরপরই তিনি সাহসের সঙ্গে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সক্কারদারা থানার পুলিশ কর্মকর্তা প্রমোদ পোরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল আনজানগাঁও এলাকা থেকে তাহির রশিদ বেগকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জালিয়াতিসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও একইভাবে অন্য কোনো নারীকে প্রতারিত করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি সমাজে ছড়িয়ে থাকা অন্ধবিশ্বাস এবং ধর্মীয় ছদ্মবেশে থাকা অপরাধীদের প্রকৃত স্বরূপকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *