ফের বাড়বে তেলের দাম? RBI গভর্নরের ইঙ্গিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা!

ফের বাড়বে তেলের দাম? RBI গভর্নরের ইঙ্গিতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতার জেরে এবার বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে ভারতের আমজনতার পকেটে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে দেশের জ্বালানি তেলের দামে। সম্প্রতি সুইৎজারল্যান্ডের এক সম্মেলনে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এমনই ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তবে একসময় সরকারের পক্ষেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ বহন করা সম্ভব হবে না। ফলে বাধ্য হয়েই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে পারে সরকার।

বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা ও ভারতের ওপর প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল ও সারের মতো অপরিহার্য পণ্যের জন্য সিংহভাগ বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের এই সংকটের আঁচ ইতিমধ্যেই ভারতের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার খুচরো বাজারে পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ায়নি, তবে আরবিআই গভর্নরের মন্তব্য সেই স্বস্তির মেয়াদে ইতি টানার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা ও বিকল্প পথের সন্ধান

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিনি দেশবাসীকে করোনাকালের মতো পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সাথে অপ্রয়োজনীয় বিদেশযাত্রা, বিদেশে গিয়ে বিয়ের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা, সোনা কেনা এবং ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

যদিও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রয়েছে। তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর এবার পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দামও হু হু করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের প্রভাব যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তবে দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে এবং সাধারণ মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের জীবনযাত্রার খরচ একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *