রণক্ষেত্র মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর, পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ!

রণক্ষেত্র মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর, পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ!

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুশিদা এলাকায় একটি ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো। শুক্রবার সকালে বাংলা-বিহার সংযোগকারী কুশিদা-তুলসিহাটা রাজ্য সড়কে একটি বেপরোয়া গতির লরি এক মোটরসাইকেল আরোহীকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বছর একুশের যুবক হাসান আলির। তিনি রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের মানকিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় যুবকের দিদি দুলি খাতুন (৩০) গুরুতর আহত হন। যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

জনরোষের মুখে পুলিশ এবং দফায় দফায় খণ্ডযুদ্ধ

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ও কুশিদা ক্যাম্পের বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে চাইলে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা বাধা দেন। এই নিয়ে শুরু হওয়া বচসা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ও কাঠের গুড়ি ছুড়তে শুরু করে। এই হামলায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার তিন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন এবং উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জের অভিযোগ ও ব্যাপক উত্তেজনা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। লাঠির আঘাতে মৃত যুবকের মা আকালি খাতুন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষ লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, পুলিশ কেবল দেহ উদ্ধার করতে গিয়েছিল এবং স্থানীয়রাই উল্টে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৮ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *