ভোটপ্রচারে লাগামহীন হুঁশিয়ারির খেসারত, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু অভিষেকের বিরুদ্ধে

নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে বিরোধী শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ এবং লাগামহীন হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগে বড়সড় আইনি বিপাকে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটপ্রচারে তাঁর দেওয়া কিছু বক্তব্যের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিধাননগর পুলিশের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাইবার অপরাধের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার নামের এক ব্যক্তি বিধাননগর পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এফআইআরটি নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিষেকের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিংস খতিয়ে দেখে সাইবার ক্রাইম থানায় মোট পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধারাগুলির মধ্যে কয়েকটি জামিন অযোগ্য।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মামলার কারণ
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিভিন্ন জনসভা থেকে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক বার্তা দিচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, গত ২৭ এপ্রিল একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপির উদ্দেশে অত্যন্ত কড়া এবং আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। সেখানে তিনি প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে এবং দিল্লি থেকে কারা উদ্ধার করতে আসে, তা তিনি দেখে নেবেন। বিরোধীদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা এই ধরণের শব্দচয়ন এবং হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী রাজীব সরকার তাঁর দাবির সপক্ষে তৃণমূল নেতার বিভিন্ন জনসভার বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজও প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভোটের ফল প্রকাশের আবহেই রাজ্যের শাসকদলের অন্যতম প্রধান সেনাপতির বিরুদ্ধে এই ধরণের গুরুতর আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই এফআইআর দায়েরের খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী শিবির। প্রবীণ বিজেপি নেতা তাপস রায় এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে কড়া অবস্থান দাবি করে জানিয়েছেন, এই ধরণের মন্তব্যের জন্য অবিলম্বে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। এই মামলার জেরে আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে।