জেলে বসেই শাহজাহানদের মোবাইল-রাজ, কড়া অ্যাকশনে সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রেসিডেন্সি ও দমদম জেলের মতো অতি সুরক্ষিত বন্দিশালার অন্দরে বছরের পর বছর ধরে অপরাধীদের অবাধ ‘মোবাইল-রাজ’ ও অপরাধচক্র চালানোর হদিস পেয়েছে পুলিশ। জেলের লোহার গরাদ টপকে অপরাধীদের এই নেটওয়ার্ক সচল থাকার ঘটনায় নবান্ন থেকে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার ও চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডি-র হাতে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্সি জেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয় এবং সেখান থেকে প্রচুর ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সন্দেশখালির কুখ্যাত শাহজাহান-সহ একাধিক হাই-প্রোফাইল বন্দি জেলের ভেতর থেকেই নির্বিঘ্নে নিজেদের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল। বিগত সরকারের ঢিলেঢালা মনোভাব ও উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা জেলকে কার্যত নিজেদের ‘সেফ হাউস’ বানিয়ে ফেলেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তদন্তে সিআইডি ও কড়া বার্তার প্রভাব
এই সমান্তরাল অপরাধচক্র সমূলে উৎপাটন করতে সিআইডি-কে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সিম কার্ডগুলি কার নামে নথিভুক্ত এবং জেলের কড়া নিরাপত্তা টপকে কীভাবে দিনের পর দিন স্মার্টফোন ও সিম কার্ড ভেতরে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রে জেলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের যুক্ত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সংশোধনাগারগুলির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, শুধু জেলের ভেতরের বন্দিরাই নয়, বাইরে থেকে যারা ওই ফোনগুলির মাধ্যমে বন্দিদের সাথে যোগাযোগ রাখত, তাদের প্রত্যেককে অপরাধী হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে জেলের ভেতরের ও বাইরের অপরাধমূলক আঁতাত ভাঙা সম্ভব হবে এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।