ভোটের মুখে ফলতায় জোর ধাক্কা তৃণমূলের, গ্রেফতার জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ সাইদুল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ল তুঙ্গে। খুনের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা সাইদুল খান। শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেফতার করে। ধৃত সাইদুল খান ফলতার হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অশান্তি পাকানো, রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানো এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ জমা পড়ছিল। আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ১৮৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার ঠিক আগের মুহূর্তে এই গ্রেফতারি ফলতার আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে বড়সড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই গ্রেফতারি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, যা রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তপ্ত ফলতায় অতীত বিতর্ক ও আইনি জট
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের ঠিক আগেই গতকাল জাহাঙ্গির খানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি ৯ বছর পুরোনো খুনের মামলায় এফআইআর দায়ের হয়। ২০১৭ সালে বিজেপি করার অপরাধে ৬ বছরের এক শিশুকন্যাকে খুনের অভিযোগে এই মামলা রুজু হয়েছে বলে দাবি নিহতের পরিবারের। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসে তিনি দাবি করেন, তিনি এলাকাতেই ছিলেন এবং নতুন করে ভোট প্রচারের কোনও প্রয়োজন তাঁর নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর কর্মিসভা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার সমর্থনে কর্মিসভা করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন অর্থাৎ ১৯ মে ফলতা জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করারও কথা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, একদিকে বিজেপি শিবিরের এই হাইপ্রোফাইল প্রচার এবং অন্যদিকে ভোটগ্রহণের ঠিক মুখে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি ফলতার নির্বাচকদের মনস্তত্ত্বে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাইদুলের গ্রেফতারির ফলে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার লড়াইয়ে তৃণমূল ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে, অন্যদিকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগে সুর চড়ানোর বাড়তি মাইলেজ পাবে বিরোধী শিবির।