অভিষেকের গড়ে দাঁড়িয়েই শুভেন্দুর মোক্ষম চাল, ফলতা ভোটের মুখে ডায়মন্ড হারবারে মেগা প্রশাসনিক বৈঠক

অভিষেকের গড়ে দাঁড়িয়েই শুভেন্দুর মোক্ষম চাল, ফলতা ভোটের মুখে ডায়মন্ড হারবারে মেগা প্রশাসনিক বৈঠক

ডায়মন্ড হারবারে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মেগা প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিরোধী শিবিরের প্রধান সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে এই ধরনের বৈঠক ডাকার পেছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী ২১ মে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র লাগোয়া ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোটের ঠিক মুখে ফলতার একেবারে দোরগোড়ায় এই প্রশাসনিক বৈঠক ডেকে মুখ্যমন্ত্রী এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিয়েছেন। একদিকে প্রতিপক্ষের দুর্গে দাঁড়িয়ে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দেওয়া, আর অন্যদিকে ফলতার ভোটারদের পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করা— শুভেন্দু অধিকারীর এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পুলিশি তৎপরতায় আরজি কর ও রাজাবাজার প্রসঙ্গ

প্রশাসনিক রাশ শক্ত করার পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। গতকালেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আরজি কর কাণ্ডে কর্তব্যে গাফিলতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তিন জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই সাসপেনশনের আবহেই আরজি করের ঘটনা নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করেছেন নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা। তিনি জানান, ঘটনার দিন রাতে তাঁর মেয়েসহ মোট পাঁচজন একসঙ্গে বসে ডিনার করেছিলেন। বাকি চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেরা করলেই পুরো সত্যিটা এবং অন্যান্য অপরাধীদের নাম সামনে চলে আসবে বলে তিনি মনে করেন। এর পাশাপাশি, কলকাতায় নতুন সরকারের কড়া নিয়মের জেরে প্রথম বড় সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজাবাজারে। সেখানে রাস্তায় নমাজ পড়া রুখে দিয়েছে পুলিশ, যার ফলে ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেত ও সামগ্রিক প্রভাব

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই রাজ্যের বিভিন্ন থমকে থাকা প্রকল্পে মোদী সরকারের সবুজ সংকেত মিলতে শুরু করেছে, যা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়মন্ড হারবারের এই মেগা বৈঠক এবং আইপিএস অফিসারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন মনোভাব প্রকাশ করতে চাইছে। ভোটের মুখে এই প্রশাসনিক সক্রিয়তা একদিকে যেমন ফলতার উপনির্বাচনে শাসকদলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে, তেমনই আরজি কর কাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে রাজাবাজারের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনা আগামী দিনে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *