দল ছাড়লে আটকাবো না, চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে তৃণমূলকে কড়া বার্তা মমতার

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ডামাডোল ও নেতাদের লাগামহীন মন্তব্য নিয়ে এবার সরাসরি রাশ ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক নেতার প্রকাশ্যে মুখ খোলা এবং দলের ‘কর্পোরেট নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নেত্রী জানিয়েছেন, কারও কোনও ক্ষোভ বা বক্তব্য থাকলে তা দলের অন্দরে জানাতে হবে, বাইরে নয়। একই সঙ্গে দলে থাকতে অনিচ্ছুক নেতাদের জন্য স্পষ্ট প্রস্থানের পথও দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।
দলের শুদ্ধিকরণ ও আনুগত্যের পরীক্ষা
দলের এই কঠিন সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা দল ছাড়তে চান, তাঁদের জোরাজুরি করে আটকানোর কোনও প্রয়োজন নেই। নেত্রীর স্পষ্ট মূল্যায়ন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যাঁরা দলের প্রতি অনুগত থাকবেন, তাঁরাই আসলে ‘নিরেট সোনা’। এই আত্মবিশ্বাসী বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত দলের একটি শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছেন, যেখানে সুবিধাবাদী ও অনুগত কর্মীদের আলাদা করা সহজ হবে। নতুন করে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে এই আনুগত্যকেই তিনি মূল ভিত্তি করতে চলেছেন।
সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা
প্রকাশ্য কোন্দল রুখে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে একাধিক সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এলাকাভিত্তিক কাজের গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্লক, টাউন ও অঞ্চল স্তরে ছোট ছোট মিছিল ও মিটিংয়ের মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়াতে বলা হয়েছে। কর্মীদের চাঙ্গা করতে প্রতিটি পার্টি অফিস রঙ করা ও ভাঙা অংশ সারিয়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে নেত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেও এই কাজে হাত দেবেন।
আইনি জটিলতা সামলানোর জন্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ঘরছাড়াদের তালিকা সরাসরি কালীঘাটে পাঠানোর নির্দেশ এসেছে। সামগ্রিকভাবে এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের অবসান ঘটিয়ে সংগঠনের রাশ এখনও তাঁর হাতেই সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।