বিজয় মিছিল নিয়ে চরম দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র অন্ডাল, আক্রান্ত স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বই

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের সঁকরা গ্রাম এলাকায় বিজেপির একটি বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল স্থানীয় রাজনীতি। আপাতদৃষ্টিতে দলীয় উৎসব মনে হলেও, এই মিছিলকে ঘিরেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে গেরুয়া শিবিরের ‘আদি’ বনাম ‘নব্য’ দ্বন্দ্ব। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গন্ডগোল থামাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ছুটে যেতে হয়।
আদি বনাম নব্য সংঘাতের নেপথ্যে
শুক্রবার দুপুরে সঁকরা গ্রাম এলাকায় গলায় গেরুয়া উত্তরীয় ও মাথায় ফেট্টি বেঁধে, আবির উড়িয়ে একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে মুহুর্মুহু ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি উঠলেও, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেন এই মিছিলের ব্যাপারে তাঁরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। কার নির্দেশে এবং কেন এই মিছিল বের করা হলো—তা নিয়ে স্থানীয় নেতারা প্রশ্ন তুলতে গেলেই শুরু হয় তুমুল বাক্বিতণ্ডা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বচসা হাতাহাতি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় বিজেপির যুব সভাপতি প্রিয়াংশু রায় সহ দলের তিনজন কর্মী ও নেতা জখম হয়েছেন।
তৃণমূল যোগের অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, যাঁরা রাতারাতি বিজেপির ঝান্ডা ধরে এই বিজয় মিছিল বের করেছেন, তাঁরা আসলে এতদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে এঁরাই বিজেপির ওপর অত্যাচার চালিয়েছিলেন এবং এখন রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া দেখে রাতারাতি ‘বিজেপি সেজে’ দলের বদনাম করার চেষ্টা করছেন। যদিও মিছিলের উদ্যোক্তাদের পাল্টা দাবি, তাঁরা আগে থেকেই মনেপ্রাণে বিজেপি কর্মী।
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রাখাল চন্দ্র দাস ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানান, দলের সভাপতি হয়েও তিনি নিজের এলাকার বিজয় মিছিলের খবর জানতেন না। প্রতিবাদ করায় উল্টে তাঁদেরই মার খেতে হয়েছে। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করে অন্ডাল থানায় নিয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আদি-নব্য দ্বন্দ্ব আগামী দিনে ওই এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।