ঐতিহাসিক রায়ে অবসান দীর্ঘদিনের ধার ভোজশালা বিবাদের, মসজিদ গড়তে মুসলিম পক্ষকে দেওয়া হবে আলাদা জমি!

ঐতিহাসিক রায়ে অবসান দীর্ঘদিনের ধার ভোজশালা বিবাদের, মসজিদ গড়তে মুসলিম পক্ষকে দেওয়া হবে আলাদা জমি!

মধ্যপ্রদেশের অন্যতম সংবেদনশীল এবং ঐতিহাসিক ধার ভোজশালা বিবাদের অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী ‘মহা-ফয়সালা’ শোনাল উচ্চ আদালতের ইন্দোর বেঞ্চ। বিচারপতি বিজয় শুক্লার সিঙ্গল বেঞ্চ চূড়ান্ত আদেশ জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বিতর্কিত ভোজশালা ভবনের ধর্মীয় চরিত্রটি মূলত ‘মা বাগদেবী সরস্বতী’র মন্দিরের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল থেকে চলা টানা শুনানির পর, সমস্ত আইনি, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক খতিয়ে দেখে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

আদালতের এই রায়ের ভিত্তি ছিল ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর পেশ করা বহু খণ্ডের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্ট। ওই রিপোর্টে ভোজশালা চত্বরের ভেতরে ভগবান বিষ্ণুসহ বিভিন্ন হিন্দু দেবী-দেবতার প্রাচীন মূর্তি, অষ্টকমল আকৃতির স্থাপত্য এবং প্রাকৃত ও সংস্কৃত ভাষায় লেখা একাধিক বিরল শিলালিপি পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখেই আদালত ভবনটিকে ১৯০৪ সাল থেকে সংরক্ষিত প্রাচীন স্মারক এবং এর মূল চরিত্রকে মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একইসঙ্গে, লন্ডনের মিউজিয়ামে থাকা মা বাগদেবীর মূল প্রতিমাটি ভারতে ফিরিয়ে আনার আবেদনটি বর্তমানে কেন্দ্র সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে আদালত জানায়।

মুসলিম পক্ষের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও সামাজিক প্রভাব

আইনি ভারসাম্য বজায় রেখে আদালত অন্য পক্ষের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, মুসলিম পক্ষ যদি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনো উপাসনালয় নির্মাণ করতে চায়, তবে তারা জমি বরাদ্দের জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবে। রাজ্য সরকার আইন অনুযায়ী সেই আবেদনের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েনের একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শান্তি রক্ষা ও সরকারি অবস্থান

এই ঐতিহাসিক রায়ের পর মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রশাসন এই রায়কে কারো ‘জয় বা পরাজয়’ হিসেবে দেখছে না। সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল ধার অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা, কারণ এই বিবাদের জেরে অতীতে বহুবার সেখানে সহিংসতা ও প্রাণহানির মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মোতায়েন রাখতে হতো বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই রায়ের ফলে এলাকায় শান্তি ও সামাজিক সৌহার্দ্য জোরদার হবে এবং রাজ্য দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তবে রায়ে আসাম্মতি থাকলে যেকোনো পক্ষেরই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সরকার সেখানেও আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *