‘বুলডোজার-রাজ চলবে না!’ তপসিয়ায় হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের প্রতিলিপি হাতে আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াল সিপিএম

কলকাতার তপসিয়া এলাকায় অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাসস্থান ভাঙার জন্য প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্ছেদের মুখে পড়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে বামপন্থীরাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। হাইকোর্টের এই রায় আসার পর, আইনি নির্দেশের সেই প্রতিলিপি বা কপি নিয়ে সরাসরি স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সংখ্যালঘুদের বাসস্থান কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
বুলডোজার অভিযান বন্ধের আইনি নথি হস্তান্তরের সময় সিপিএমের পক্ষ থেকে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর রাজনৈতিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাম নেতৃত্বের দাবি, এই উচ্ছেদ অভিযানের আড়ালে মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও বাসস্থান কেড়ে নেওয়ার এক চতুর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর ‘বুলডোজার নীতি’র সঙ্গে এই পদক্ষেপের তুলনা টেনে সিপিএম নেতারা অভিযোগ করেন, এ রাজ্যেও এখন ভিন্ন মোড়কে একই ধরনের দমনপীড়ন চালানোর চেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত পুরসভার পক্ষ থেকে তপসিয়া অঞ্চলের কিছু নির্মাণকে বেআইনি বা অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত নোটিশ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযানের কারণেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙা বন্ধ হলেও, এর দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে চলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভা তথা রাজ্য প্রশাসনের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তেমনই সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক ও নাগরিক অধিকার রক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির মাঠ আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।