বর্ষার আগেই জমা জল থেকে রেহাই দিতে অ্যাকশনে বিধায়ক, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক

বর্ষার আগেই জমা জল থেকে রেহাই দিতে অ্যাকশনে বিধায়ক, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক

প্রতি বছর বর্ষা এলেই জমা জলের যন্ত্রণায় নরককুণ্ডে পরিণত হয় রাজারহাট-গোপালপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ এই দুর্ভোগ সহ্য করলেও স্থায়ী কোনো সুরাহা মেলেনি। কোথাও নিকাশি নালা বন্ধ, তো কোথাও রাস্তা অস্বাভাবিক উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি ঢুকে যায় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর। এবার বর্ষা আসার আগেই এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোমর বেঁধে মাঠে নামলেন এলাকার নবনিযুক্ত বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি।

সল্টলেকে পুর-ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে মেগা বৈঠক

জমা জলের অভিশাপ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে শুক্রবার সল্টলেকের বিধাননগর পুরসভায় পৌঁছান বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। সেখানে পুরসভার পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার এবং নিকাশি বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও জরুরি বৈঠক করেন তিনি। রাজারহাট-গোপালপুর অঞ্চলের কোন কোন পকেটে জল জমে এবং তার মূল কারণ কী, তার একটি সম্পূর্ণ ম্যাপ ও রূপরেখা ইঞ্জিনিয়ারদের সামনে তুলে ধরেন বিধায়ক। বর্ষার ঢল নামার আগেই নিকাশি নালাগুলো দ্রুত পরিষ্কার (Dredging) করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান

বৈঠকে জল জমার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ‘বেআইনি নির্মাণ’ এবং প্রোমোটারি চক্রকে দায়ী করেন তরুণজ্যোতি। তিনি অভিযোগ করেন, যত্রতত্র নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহুতল গড়ে ওঠার কারণে বহু পুরোনো প্রাকৃতিক নিকাশি নালা বুজে গিয়েছে। বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় পুরসভাকে পরামর্শ দিয়েছেন:

  • যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণের কারণে জল নিকাশের পথ অবরুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
  • কোনো রকম রাজনৈতিক রঙ না দেখে জনস্বার্থে এই সমস্ত বাধা অপসারণ করতে হবে।

স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিয়ে তরুণজ্যোতি তেওয়ারি জানান, “বিগত দিনে পরিকল্পনাহীন কাজের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাস্তা উঁচু করার আগে নিকাশির কথা ভাবা হয়নি। এবার আমরা বর্ষার আগেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করছি।” বিধায়কের এই সক্রিয় ভূমিকা এবং পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় সাধনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুরের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। এখন দেখার, বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে এই উদ্যোগ কতটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *