সরকার পতনের ধাক্কা ময়দানে? স্পনসর জট কাটার আশঙ্কায় সমস্যায় পড়তে পারে ইস্টবেঙ্গল

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে চলেছে কলকাতার ক্রীড়া ময়দানে, বিশেষ করে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের ওপর। লাল-হলুদ শিবিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক আশঙ্কার মেঘ। ময়দানের অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ফুটবল দলের প্রধান স্পনসর ‘ইমামি গ্রুপ’ (Emami) হয়তো এবার চুক্তি ভেঙে ইনভেস্টর হিসেবে সরে দাঁড়াতে পারে। আর তেমনটা হলে আসন্ন ফুটবল মরসুমের আগে এক বড়সড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে ইস্টবেঙ্গল।
চাপের জটলা ও জোরপূর্বক চুক্তি?
ময়দান ও রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ইমামি গ্রুপ আদতে কোনো সময়ই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের স্পনসর হতে খুব একটা ইচ্ছুক ছিল না। বিগত সরকারের শেষ জমানায়, শীর্ষ নেতৃত্বের ‘বিশেষ অনুরোধ’ এবং প্রশাসনিক চাপে পড়েই শেষ মুহূর্তে লাল-হলুদের লগ্নিকারী হিসেবে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিল ইমামি। কিন্তু রাজ্যে এখন ক্ষমতার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। যে সরকারের চাপে বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে ইমামি কোটি কোটি টাকা ঢালতে রাজি হয়েছিল, সেই সরকার পড়ে যাওয়ায় এখন তাদের ওপর আর কোনো অদৃশ্য প্রশাসনিক চাপ নেই। ফলে এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইমামির পক্ষে চুক্তি থেকে সরে আসা এখন অনেকটাই সহজ।
ইস্টবেঙ্গল ও ইমামি শিবিরের বর্তমান অবস্থান
যদিও এই জল্পনা নিয়ে ইমামি গ্রুপের শীর্ষ কর্তারা এখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি, তবুও ক্লাবের অন্দরে এই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই নতুন সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও ময়দানপ্রেমী মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন, যাতে মাঝপথে স্পনসর সরে গেলেও দলের ওপর তার কোনো প্রভাব না পড়ে।
মরসুমের মুখে চরম অনিশ্চয়তা
সামনেই রয়েছে নতুন ফুটবল মরসুম, দলবদলের বাজার এবং আইএসএল (ISL) সহ একাধিক বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যদি ইমামির মতো বড় কর্পোরেট হাউস লাল-হলুদ শিবির থেকে হাত গুটিয়ে নেয়, তবে ফুটবলারদের চুক্তি নবীকরণ এবং নতুন ভালো মানের বিদেশি রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্টকে চরম সমস্যায় পড়তে হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের ঢেউ রাইটার্স বা নবান্ন পার হয়ে যেভাবে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির শতাব্দীপ্রাচীন তাঁবুতে আছড়ে পড়ছে, তাতে লাল-হলুদ সমর্থকেরা এখন বেশ কিছুটা উদ্বেগের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।