মাধুরীর ‘অন্তর্বাস’ দৃশ্য নিয়ে অনড়, অমিতাভের মধ্যস্থতাও ব্যর্থ, কেন ৫ দিনেই বন্ধ হয়েছিল ছবির শুটিং!

মাধুরীর ‘অন্তর্বাস’ দৃশ্য নিয়ে অনড়, অমিতাভের মধ্যস্থতাও ব্যর্থ, কেন ৫ দিনেই বন্ধ হয়েছিল ছবির শুটিং!

বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতকে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শালীন ও মার্জিত অভিনেত্রী হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁকেও পড়তে হয়েছিল এক চরম অস্বস্তিকর এবং অপমানের মুখে। ১৯৮৯ সালের এক ব্লকবাস্টার প্রজেক্টে ব্লাউজ খুলে ক্যামেরার সামনে অন্তর্বাস দেখানোর জন্য মাধুরীকে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন বলিউডের নামী পরিচালক টিনু আনন্দ। শেষ মুহূর্তে মাধুরী নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে সেই দৃশ্য করতে অস্বীকার করায় তাঁকে সেট থেকে তাড়িয়ে পর্যন্ত দিয়েছিলেন পরিচালক। আজ এত বছর পর সেই ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত ঘটনাটি আরও একবার বিনোদন দুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

অমিতাভের বিপরীতে ‘শনাক্ত’ ছবির সেই মেগা অফার

সালটা ১৯৮৯। ‘তেজাব’ ছবির সাফল্যের পর মাধুরী দীক্ষিত তখন বলিউডের উঠতি তারকা। সেই সময়েই বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে ‘শনাক্ত’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে মাধুরীকে বেছে নেন পরিচালক টিনু আনন্দ। ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে মাধুরীকে তাঁর ব্লাউজ খুলে ক্যামেরার সামনে অন্তর্বাস পরে দাঁড়াতে হতো। টিনু আনন্দের দাবি অনুযায়ী, ছবির সই করার সময় মাধুরী পুরো বিষয়টি শুনে এই দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন।

শুটিংয়ের দিন বেঁকে বসলেন মাধুরী, ৪০ মিনিট সাজঘরে বন্দি

ছবির প্রথম দিনেই এই দৃশ্যটির শুটিং করার সিদ্ধান্ত নেন পরিচালক। শট পুরোপুরি তৈরি, সহ-অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনও সেটে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ঠিক শুটিংয়ের মুহূর্তেই নিজের মত বদলে ফেলেন মাধুরী। এমন একটি দৃশ্যে অভিনয় করতে তাঁর শালীনতায় বাধছিল। অস্বস্তির জেরে প্রায় ৪০ মিনিট নিজেকে মেকআপ ভ্যান বা সাজঘরে আটকে রাখেন তিনি। কিছুতেই ঘর থেকে বেরোতে চাইছিলেন না অভিনেত্রী।

‘ব্লাউজ খুলতে হবেই’, অনড় পরিচালকের সেট থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি

দীর্ঘক্ষণ পর পরিচালক টিনু আনন্দ নিজে মাধুরীর সাজঘরে যান। সেখানে মাধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি এমন কোনো শট দেবেন না যেখানে তাঁকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে। এতেই প্রচণ্ড চটে যান টিনু আনন্দ। পরিচালকের বক্তব্য ছিল, তিনি কোনো কিছু লুকিয়ে বা জোর করে করছেন না, প্রথম দিনেই এই শর্তের কথা জানানো হয়েছিল। মাধুরী রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত টিনু সেটেই মাধুরীকে রীতিমতো অপমান করে বলেন:

“যদি এই দৃশ্য করতে না পারো, তবে ব্যাগ গুছিয়ে এখনই আমার সেট থেকে বেরিয়ে যাও।”

ব্যর্থ হলো অমিতাভ বচ্চনের মধ্যস্থতাও

সেটে পরিচালক ও নায়িকার মধ্যে এই চরম অশান্তি ও অচলাবস্থা তৈরি হতে দেখে আসরে নামেন খোদ অমিতাভ বচ্চন। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং মাধুরীকে বোঝানোর জন্য পরিচালকের কাছে কিছুটা সময় চান। কিন্তু মাধুরী নিজের আত্মসম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রশ্নে একচুলও নড়তে রাজি ছিলেন না। অন্যদিকে পরিচালক টিনু আনন্দও তাঁর জেদ ধরে বসে থাকেন।

মাত্র ৫ দিনেই চিরতরে বন্ধ হলো বিগ বাজেট ছবি

পরিচালক ও অভিনেত্রীর এই তীব্র সংঘাতের খেসারত দিতে হয়েছিল গোটা সিনেমাটিকে। মাধুরী দীক্ষিত সেই অপমান সহ্য করে সেট ছেড়ে চলে যান। পরিচালকও মাধুরীকে ছাড়া ওই দৃশ্যের শুটিং করবেন না বলে অনড় থাকেন। ফলস্বরূপ, অমিতাভ বচ্চন ও মাধুরী দীক্ষিতের এই বহুপ্রতীক্ষিত ‘শনাক্ত’ ছবিটি মাত্র পাঁচ দিন শুটিং হওয়ার পরই চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। ছবিটি আর কোনোদিন আলোর মুখ দেখেনি। তবে কেরিয়ারের শুরুর দিকেও গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করে মাধুরীর নেওয়া সেই সাহসী সিদ্ধান্ত আজও বলিউডে এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *