ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট রুখতে নবান্নের মেগা অ্যাকশন, ২০২১ থেকে দেওয়া সমস্ত শংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ

রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র (Cast Certificate) নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের জল্পনা ও বিতর্কের অবসান ঘটাতে এবার এক নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে যত তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলির সত্যতা এবং আইনি বৈধতা পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) এই স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশিকা অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের
নবান্নের সবুজ সংকেত মেলার পরই রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর (Backward Classes Welfare Department) প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনসহ নির্দেশনামা পাঠিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে:
- ২০২১ সাল থেকে ডিজিটাল বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যত কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটির নথিপত্র এবং আবেদনকারীর পারিবারিক ইতিহাস পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে।
- কোনো সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে যদি সামান্যতম গরমিল বা ভুয়ো নথির সন্ধান মেলে, তবে সেই শংসাপত্র অবিলম্বে বাতিল (Cancel) করা হবে।
- প্রয়োজনে জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত আবেদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
১১ বছরে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ শংসাপত্র
রাজ্যে ক্ষমতার আমূল পরিবর্তনের পর বদলে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যে জাতিগত শংসাপত্র বণ্টনের একটি চাঞ্চল্যকর খতিয়ানও পেশ করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে শুরু করে বিগত কয়েক বছরে বাংলায় মোট ১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর বিভাজন নিম্নরূপ:
- তপশিলি জাতি (SC) সার্টিফিকেট: প্রায় ১ কোটি
- তপশিলি উপজাতি (ST) সার্টিফিকেট: প্রায় ২১ লক্ষ
- ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট: প্রায় ৪৮ লক্ষ
কেন এই তড়িঘড়ি যাচাইকরণ?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, বিগত কয়েক বছরে বিশেষ করে ওবিসি এবং এসসি সার্টিফিকেট পাইকারি হারে বিলি করা হয়েছে এবং এর পেছনে একটি বড়সড় চক্র সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল বর্তমান শাসক দল। প্রকৃত অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষেরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি চাকরি বা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করতেই সরকারের এই শুদ্ধিকরণ অভিযান। বিশেষ করে ২০২১-এর পর থেকে দেওয়া সার্টিফিকেটগুলির ওপরই প্রথম দফায় কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। সরকারের এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার জেরে ময়দানে কত হাজার ভুয়ো সার্টিফিকেট বাতিল হয়, এখন সেটাই দেখার।