ইডি দপ্তরে সাড়ে ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা, অবশেষে বেরলেন রথীন ঘোষ

ইডি দপ্তরে সাড়ে ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা, অবশেষে বেরলেন রথীন ঘোষ

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে নিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা জেরা শেষে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি ইডি দপ্তর থেকে বাইরে আসেন।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মধ্যমগ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন রথীন ঘোষের সুপারিশে একাধিক অবৈধ নিয়োগ হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁকে মোট ৫ বার তলব করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনী ব্যস্ততা ও প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি এতদিন হাজিরা এড়িয়ে যান। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তাঁর ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। এবারের নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম কেন্দ্র থেকে মাত্র ১৩০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এই প্রবীণ নেতা।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও মন্ত্রীর বক্তব্য

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডি দপ্তর থেকে বেরোনোর সময় রথীন ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, তদন্তকারীরা তাঁর কাছে যা যা জানতে চেয়েছিলেন, তিনি তার সবেরই উত্তর দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়েছেন। তবে ইডি সূত্রের খবর, এই জিজ্ঞাসাবাদেই প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে না। বয়ান খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনে তাঁকে আবারও ডেকে পাঠানো হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে দুর্নীতি মামলা নিয়ে ইডির তৎপরতা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। মাত্র চার দিন আগে, গত ১১ মে এই একই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল রাজ্যের আরেক প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। এরপর রথীন ঘোষকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করার এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। রেশন দুর্নীতি মামলায় বছর তিনেক আগে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রথীন ঘোষের কাঁধে খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পুরনিয়োগ মামলায় তাঁর নাম জড়ানোয় এবং একের পর এক প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই কঠোর অবস্থান শাসক শিবিরের ওপর আগামী দিনে চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *