নিট প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে এনটিএ সদস্য কেমিস্ট্রির অধ্যাপক, সিবিআইয়ের জালে মূল চক্রী

দেশজুড়ে ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নেপথ্যে এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল চক্রী বা কিংপিনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ধৃত ব্যক্তি পুণের একজন নামী কেমিস্ট্রি অধ্যাপক। তদন্তে জানা গেছে, এই শিক্ষকই প্রথম নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন এবং অত্যন্ত চতুরতার সাথে তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
ধৃত অধ্যাপকের নাম পিভি কুলকার্নি। তিনি সরাসরি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই অবসরপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যাপক দীর্ঘ বহু বছর ধরে নিটের প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেলে সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। ফলে পরীক্ষার অনেক আগেই প্রশ্নপত্রের সমস্ত তথ্য তাঁর নখদর্পণে চলে আসত। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট ইউজি পরীক্ষার আগেই তিনি বহু পরীক্ষার্থীর কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই অপরাধমূলক কাজে তাঁকে সাহায্য করার অভিযোগে মনীষা বাঘমারে নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
গোপন টিউশন সেশনের আড়ালে কোটি টাকার খেলা
প্রশ্ন ফাঁসের জন্য ধৃত অধ্যাপক এক অভিনব ও নিরাপদ কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি একটি ‘স্পেশাল কোচিং ক্লাস’ বা সিক্রেট টিউশন সেশনের আয়োজন করেন। সিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত প্রমাণ এড়াতে অধ্যাপক কুলকার্নি কোনো লিখিত বা ডিজিটাল উপায়ে প্রশ্নপত্র শেয়ার করেননি। পরিবর্তে, তিনি ক্লাসে মুখে মুখেই মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন, অপশন এবং সেগুলির সঠিক উত্তর বলে দিয়েছিলেন। উপস্থিত পড়ুয়ারা তাদের নোটবুকে সেই সমস্ত প্রশ্ন লিখে নেয় এবং পরীক্ষার খাতায় হুবহু মিল পেয়ে যায়। এই বিশেষ ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য একেকজন পড়ুয়ার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই গ্রেফতারির ফলে নিট পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেলে থাকা সদস্যদের সততা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই চক্রের শিকড় আরও কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুণের এই অধ্যাপক ও তাঁর সহযোগীকে নিয়ে নিট প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই আর্থিক লেনদেন এবং প্রশ্ন ফাঁসের সাথে যুক্ত বাকিদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।