টলিউডে মাফিয়াগিরি ও সিন্ডিকেট রাজত্বের অবসান চান তারকা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর টলিউড তথা বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ বন্ধের ডাক দিলেন নবনির্বাচিত তারকা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিনোদন জগতের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্তরে রাজনৈতিক দলের ঝাণ্ডা লাগিয়ে ইউনিয়ন তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে সুস্থ সংস্কৃতির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ কর্মহীনতা এবং ইন্ডাস্ট্রির এই অসংবিধানিক পরিকাঠামো বদলাতেই তিনি রাজনীতিতে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতিকরণ ও দলাদলির নেতিবাচক প্রভাব
পাপিয়া অধিকারীর মতে, টলিউডে গত কয়েক বছরে একচেটিয়া ও পক্ষপাতমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার কারণে তাঁর মতো বহু দক্ষ ও দাপুটে অভিনয়শিল্পীকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে এবং যোগ্য কলাকুশলীরা বঞ্চিত হয়েছেন। প্রাইম টাইমে মানহীন সিনেমা প্রদর্শন এবং অযোগ্য সিদ্ধান্তের কারণে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বাম বা তৃণমূলপন্থী নির্বিশেষে সমস্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও কর্মমুখী পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
সংবিধান মেনে কাজ ও নারী সুরক্ষায় জোর
টলিউডের চলমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি নারী সুরক্ষাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই তারকা বিধায়ক। বিশেষ করে রাতে শুটিং শেষে ফেরা নারী কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি, দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতির অবসান ঘটাতে সংবিধান চর্চার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকেই নিজে আইনি ও সাংবিধানিক নিয়মাবলী পড়া শুরু করেছেন বলে জানান, যাতে সম্পূর্ণ আইনি পথে এই অরাজকতার অবসান ঘটানো সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারের সময় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে বাংলায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলের শিকার হওয়া প্রসঙ্গে তিনি সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন। পাপিয়া অধিকারী স্পষ্ট জানান, ফুটবলপ্রেমী ও তরুণদের আবেগকে মর্যাদা দিতে তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও মেসিকে এ রাজ্যে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর এবং বর্তমান সরকারের অধীনে ট্রোলিং সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।