রিলসের নেশায় ভাঙল সংসার, জীবন্ত স্ত্রীর পিণ্ডদান করে সম্পর্ক চুকালেন স্বামী!

রিলসের নেশায় ভাঙল সংসার, জীবন্ত স্ত্রীর পিণ্ডদান করে সম্পর্ক চুকালেন স্বামী!

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভিউ আর ফলোয়ারের অন্ধ মোহ দম্পতিদের ব্যক্তিগত জীবনে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। লাইক আর কমেন্টের এই ভার্চুয়াল দুনিয়া অনেক সময় বাস্তব সংসারকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করাচ্ছে। সম্প্রতি এমনই এক নজিরবিহীন ও চরম ঘটনা সামনে এসেছে, যা ডিজিটাল যুগের এক অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করেছে। ইনস্টাগ্রামে আপত্তিকর রিলস বানানোর নেশায় বুঁদ স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ নয়, বরং পারলৌকিক আচারের মাধ্যমে জীবিত স্ত্রীর পিণ্ডদান করে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন এক ব্যক্তি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি গঙ্গার ঘাটে বসে পুরোহিতের উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে পিণ্ডদান করছেন। তাঁর সামনে রাখা রয়েছে স্ত্রীর একটি মালা পরানো ছবি। সনাতন ধর্মমতে এই আচারটি সাধারণত মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য করা হলেও, এখানে স্বামী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর স্ত্রী জীবিত। রাগের মাথায় ছবির ওপর থুতু ছিটিয়ে এবং সেটি নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে ওই ব্যক্তি চিৎকার করে ঘোষণা করেন যে তাঁর কাছে তাঁর স্ত্রী চিরদিনের মতো মৃত।

বিরোধের কারণ ও চরম পদক্ষেপ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনসমক্ষে অত্যন্ত উসকানিমূলক এবং আপত্তিকর নাচের ভিডিও বা রিলস পোস্ট করে আসছিলেন। স্বামী ও পরিবারের তরফ থেকে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। দিনের পর দিন এই ঘটনা চলতে থাকায় পারিবারিক অশান্তি চরম আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত সামাজিক সম্মানে আঘাত লাগা এবং মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই ওই স্বামী আইনি পথ এড়িয়ে এই চরম ও বিতর্কিত পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সমাজ ও নেটপাড়ায় তীব্র বিতর্ক

এই ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়া স্পষ্ট দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষ স্বামীর এই মানসিক যন্ত্রণাকে সমর্থন করে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের মতে, একজন পুরুষ চরম স্তরের মানসিক হেনস্থার শিকার না হলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

অন্যদিকে, তীব্র সমালোচনা করে দ্বিতীয় পক্ষ এটিকে সম্পূর্ণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও বিকারগ্রস্ত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের দাবি, স্ত্রীর রিলস বানানোর বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বামী নিজেই একটি বড়সড় ‘ভার্চুয়াল ড্রামা’ বা রিলস তৈরি করে ফেলেছেন। পবিত্র ধর্মীয় আচারকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর হাতিয়ার করায় এবং একজন জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা করার এই মানসিকতা আধুনিক সমাজে অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *