একাই একশো সিপিএমের মোস্তাফিজুর, প্রথম দিনেই বিধানসভায় ফিরল সোমনাথ-হালিম স্মৃতি

বিগত নির্বাচনে শূন্য হাতে ফিরতে হলেও ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বামেদের ঝুলিতে এসেছে মাত্র একটি আসন। কিন্তু সংখ্যার বিচারে পিছিয়ে থাকলেও সেই ‘এক’ যে একশো জনের দাপট দেখাতে পারেন, শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচনের দিন তার প্রমাণ দিলেন ডোমকলের নবনির্বাচিত সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। নবনির্বাচিত অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে মোস্তাফিজুর যেভাবে সংসদীয় রাজনীতির গরিমা এবং বামপন্থী ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাসের স্মরণ ও বিরোধীদের ভূমিকা
বক্তব্য রাখতে উঠে মোস্তাফিজুর শুরুতেই প্রফুল্ল ঘোষ, বিধান রায় থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো বাংলার রাজনীতির মহীরুহদের স্মরণ করে এই কক্ষের গরিমা ব্যাখ্যা করেন। মুর্শিদাবাদের ডোমকলের ২৫ বছরের মন্ত্রী আনিসুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সংখ্যার লড়াইয়ের চেয়েও বড় হল আদর্শের লড়াই। তাঁর মতে, বিধানসভা বা লোকসভা হল মূলত বিরোধীদের জন্য, যেখানে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়াই আসল কাজ। এই কক্ষ আসলে সরকারের দর্পণ হিসেবে কাজ করে।
স্পিকারকে কড়া বার্তা ও কণ্ঠরোধ না করার আবেদন
বক্তব্যের মাঝে ভারতের সংসদীয় রাজনীতির দুই কিংবদন্তি সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং হাসিম আব্দুল হালিমের প্রসঙ্গ টেনে এনে সিপিএমের এই একমাত্র বিধায়ক মনে করিয়ে দেন, সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে বামপন্থীদের সংসদীয় গুরুত্ব মাপা সম্ভব নয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে মোস্তাফিজুর আবেদন করেন, যাতে আগামী পাঁচ বছর সংখ্যার দোহাই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ না করা হয়। অতীতে বিধানসভার সদস্যদের ওপর আক্রমণ বা বিরোধী দলনেতাকে প্রাপ্য গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূল ও বিজেপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতিতেও প্রথম দিনেই একজন মাত্র বাম বিধায়কের এমন জোরালো বক্তব্য প্রকাশের মূল কারণ হলো সংসদীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা। বিধানসভায় একক প্রতিনিধি হিসেবে নিজের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করা এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতেই মোস্তাফিজুর এই আক্রমণাত্মক অথচ তাত্ত্বিক পথ বেছে নিয়েছেন। এর ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশনে শাসক দল বা প্রধান বিরোধী দল বিজেপি একক আধিপত্য কায়েম করতে পারবে না। সংখ্যার জোরে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হলে মোস্তাফিজুর রহমান যে একাই শাসক পক্ষকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাতে পারেন, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।