বিদেশ যাত্রায় নতুন ট্যাক্স বসছে? জল্পনা উড়িয়ে কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রী মোদীর!

বিদেশ যাত্রায় নতুন ট্যাক্স বসছে? জল্পনা উড়িয়ে কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রী মোদীর!

বিদেশ যাত্রার ওপর নতুন করে কোনো ট্যাক্স, সেস বা সারচার্জ বসানোর খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, ছড়িয়ে পড়া এই খবরের মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশ ভ্রমণের ওপর এ ধরনের কোনো বিধিনিষেধ আরোপের প্রশ্নই ওঠে না। দেশের নাগরিকদের সুবিধার্থে সরকার ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা (ইজ অফ ডুইং বিজনেস) এবং জীবনযাত্রা সুগম করার (ইজ অফ লিভিং) নীতিতে অবিচল রয়েছে।

সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার বিদেশ যাত্রার ওপর অস্থায়ীভাবে এক বছরের জন্য অতিরিক্ত সারচার্জ বা কর বসানোর পরিকল্পনা করছে। অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও আমদানি ব্যয় সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বিবৃতির সূত্র ধরেই মূলত এই জল্পনার সূত্রপাত হয়, যেখানে তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়াতে এবং জ্বালানি সাশ্রয় করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ও বিমান খাতের ওপর চাপ

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও বিমান জ্বালানির (এটিএফ) দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ব্যারেল প্রতি বিমান জ্বালানির দাম আচমকা ১৫০ থেকে ২০০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে বিমান পরিষেবা খাত। ভারতের অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলোও এই বাড়তি খরচের চাপ কমাতে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই মূলত বিদেশ ভ্রমণের ওপর কর আরোপের ভুয়ো খবরটি ছড়াতে শুরু করে।

বিভ্রান্তি নিরসন ও সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যকার উদ্বেগ দূর হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় ও বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, সরকার কোনো জোরপূর্বক কর বা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায় না—প্রধানমন্ত্রীর বার্তা থেকে তা স্পষ্ট। এই বিবৃতির ফলে বিমান পরিবহন ও পর্যটন শিল্পে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *