“ওরা দারুণ মানুষ!” শাহবাজ-মুনিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প

পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসায় মেতে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও অনুরোধের কারণেই মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা বা সম্মতি ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের অনুরোধ তিনি এড়াতে পারেননি। একই সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ‘দারুণ মানুষ’ বলে অভিহিত করে তাঁদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নেপথ্যের কারণ ও কৌশলগত সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার পরাশক্তি চিনের প্রভাব বলয়কে নজরে রেখে পাকিস্তান ও আমেরিকার এই কূটনৈতিক বোঝাপড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রশাসনের জন্য ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার চেয়ে একটি বন্ধুভাবাপন্ন মুসলিম দেশকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক ছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে।
ভবিষ্যৎ ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুখে পাক সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রকাশ্য প্রশংসা ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান আমেরিকার কাছ থেকে বড় ধরনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য চিনের মাটিতে দাঁড়িয়ে কিংবা চিন সফর শেষে আসায়, বেজিং-ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন ত্রিভুজ সম্পর্কের সমীকরণে নতুন কোনো মোড় আসে কি না, তা-ও দেখার বিষয়।