“কিছু বেকার যুবক ‘তেলাপোকার’ মতো সিস্টেমে আক্রমণ করছে!” আইনজীবী ধমকে তোপ প্রধান বিচারপতির

“কিছু বেকার যুবক ‘তেলাপোকার’ মতো সিস্টেমে আক্রমণ করছে!” আইনজীবী ধমকে তোপ প্রধান বিচারপতির

আইনজীবী মহলে জাল ডিগ্রির রমরমা এবং কিছু যুবকের অপেশাদার আচরণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের মতে, পেশাগত যোগ্যতা বা কর্মসংস্থান না পেয়ে কিছু যুবক ব্যবস্থার ওপর ক্রমাগত আঘাত করে চলেছে। একটি মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ আইনি পেশার অবক্ষয় নিয়ে এই নজিরবিহীন ও কঠোর মন্তব্য করে। একজন আইনজীবীর ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ পদমর্যাদা চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষার ব্যবহার ও শৃঙ্খলাভঙ্গ

শুনানি চলাকালীন আবেদনকারী আইনজীবীর সোশ্যাল মিডিয়া তথা ফেসবুকের পোস্ট এবং সেখানে ব্যবহৃত ভাষার তীব্র সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, আইনি পেশায় শৃঙ্খলার গুরুত্ব অপরিসীম এবং সাধারণ মানুষের জানা উচিত যে একজন আইনজীবী কী ধরণের ভাষা ব্যবহার করছেন। বিচারপতি বাগচীও প্রশ্ন তোলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর তকমাটি কি কেবল সামাজিক সম্মানের অলঙ্কার নাকি বিচারব্যবস্থায় সক্রিয় অবদানের প্রতীক। আদালতের এই কঠোর অবস্থান দেখে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং নিজের আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত সেই অনুমতি মঞ্জুর করেছে।

বার কাউন্সিলের সীমাবদ্ধতা ও সিবিআই তদন্তের ইঙ্গিত

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দেশে হাজার হাজার মানুষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কালো কোট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যাদের ডিগ্রির সত্যতা নিয়ে মারাত্মক সন্দেহ রয়েছে। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (বিসিআই) ভোটের রাজনীতির কারণে এই বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেবে না উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি জানান, ডিগ্রির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে (CBI) দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আদালতের এই কঠোর মনোভাবের ফলে আগামী দিনে ভুয়ো আইনজীবীদের চিহ্নিত করতে দেশজুড়ে বড়সড় তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ও স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধারে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *