প্রথমে বাবরি, এবার ভোজশালা! হাইকোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ওয়েইসি বললেন—আইন নিয়ে তামাশা হচ্ছে

মধ্যপ্রদেশের ধারের ঐতিহাসিক ভোজশালা চত্বর নিয়ে ইন্দোর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে দেশীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে একে দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন। হায়দ্রাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই রায়কে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ-রাম মন্দির মামলার রায়ের সঙ্গে তুলনা করেন।
ওয়াইসির দাবি, এই রায়ের মাধ্যমে উপাসনালয় আইন বা ‘প্লেসেস অব ওয়ারশিপ অ্যাক্ট’-কে সম্পূর্ণ উপহাসে পরিণত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্ট যেখানে এই আইনটিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, সেখানে বর্তমান রায়ে সেই নীতিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের বিচারিক সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অগ্রাধিকার দেয় এবং অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকারকে দুর্বল করে, যা ভবিষ্যতে দেশের আরও বহু ধর্মীয় স্থানকে নতুন করে বিবাদের মুখে ঠেলে দেবে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা
হাইকোর্টের এই রায়ের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। ইসলামিক সেন্টার অব ইন্ডিয়ার সভাপতি মাওলানা খালিদ রশীদ ফরঙ্গি মহলী জানিয়েছেন, কয়েক শতাব্দী ধরে ওই মসজিদে নামাজ আদায় করা হচ্ছে এবং এর সপক্ষে তাঁদের কাছে ঐতিহাসিক নথি ও আইনি প্রমাণ রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভোজশালার আইনি পরিস্থিতি অযোধ্যা বিবাদের চেয়ে আলাদা। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পথ এখনও খোলা রয়েছে এবং সেখানে তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
হিন্দু পক্ষের সন্তোষ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
অন্য দিকে, হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। আদালত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (ASI) ২০০৩ সালের একটি আদেশ আংশিক বাতিল করে ভোজশালা চত্বরকে রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সেখানে হিন্দু পক্ষকে সম্পূর্ণ পূজার অধিকার প্রদান করেছে। একই সঙ্গে, ওই চত্বরে নামাজ আদায়ের অনুমতি বাতিল করে মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের একটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বিবাদ নতুন মোড় নিল। একদিকে যেমন এটি একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের দাবিকে আইনি স্বীকৃতি দিল, অন্যদিকে তেমনি উপাসনালয় সংক্রান্ত আইনের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।