‘ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না’, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর হরমুজ প্রণালী খোলায় সম্মতি শি জিনপিংয়ের

‘ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না’, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর হরমুজ প্রণালী খোলায় সম্মতি শি জিনপিংয়ের

তিন দিনের চীন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈশ্বিক রাজনীতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যাতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালী সব পরিস্থিতিতেই উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বেইজিং সম্মতি প্রকাশ করেছে।

সফর শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে চীনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে গত আড়াই সপ্তাহে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে রয়েছে এবং চীনও চায় এই আন্তর্জাতিক জলসীমা বাণিজ্যিকভাবে সচল থাকুক।

তাইওয়ান ইস্যুতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানোর বার্তা

ইরান সংকটের পাশাপাশি এই বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে তাইওয়ান ইস্যু। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিনপিং তাইওয়ানের বর্তমান স্বাধীনচেতা মনোভাবের ঘোর বিরোধী এবং তিনি সেখানে কোনো ধরনের যুদ্ধ বা বড় সংঘাত দেখতে চান না। চীন মনে করে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার লড়াই এক বিশাল আঞ্চলিক সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে। ট্রাম্প এই বিষয়ে চীনের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির দীর্ঘমেয়াদি নীতি নিয়ে বেইজিংয়ের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ১৯৮২ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা করে খুব দ্রুতই তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকা নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই আকস্মিক ভূ-রাজনৈতিক বোঝাপড়া মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে। আমেরিকার এই অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের মুখে চীন যদি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে, তবে তেহরান আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি একঘরে হয়ে পড়বে। হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে চীনের এই অবস্থান বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকার নমনীয় মনোভাব এবং চীনের আপত্তির কারণে পূর্ব এশিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *